দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি আর বাজারের অস্থিরতার পেছনে দায়ী সিন্ডিকেট ও চাঁদাবাজ চক্রকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। মঙ্গলবার বিকেলে সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় তিনি বলেন, “বাজারে আগুন লাগানোর পেছনে দুটি দুষ্টচক্র কাজ করছে—একদল চাঁদাবাজ, অন্যদল মজুতদার সিন্ডিকেট। আল্লাহর মেহেরবানি ও আপনাদের সমর্থনে আমরা যদি দেশ পরিচালনার সুযোগ পাই, তবে প্রথমে চাঁদাবাজের হাত ধরব এবং এরপর সিন্ডিকেট ভেঙে চুরমার করে দেব। এ দেশে কোনো সিন্ডিকেটের অস্তিত্ব রাখা হবে না; শাসন হবে কেবল জনগণের।”
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, জামায়াত কেবল নিজের দলের জয় চায় না, বরং ১৮ কোটি মানুষের মুক্তি চায়। তিনি দেশের সংকটময় পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে বলেন, “সামনে আমাদের দুটি পরীক্ষা। একটি হলো গণভোট, অন্যটি সাধারণ নির্বাচন। এই গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের অর্থ হলো আজাদি বা স্বাধীনতা, আর ‘না’ ভোটের অর্থ হলো পুনরায় গোলামির জিঞ্জিরে আবদ্ধ হওয়া। এ দেশের ছাত্র-জনতা বুক পেতে দিয়ে লড়াই করেছে প্রমাণ করার জন্য যে, তারা আর কোনো দানবীয় শক্তি বা আধিপত্যবাদের কাছে মাথা নত করবে না।”
সাতক্ষীরাবাসীকে বিগত ১৫ বছরের বঞ্চনার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, এই জেলাকে এতদিন সৎ মায়ের সন্তানের মতো অবহেলা করা হয়েছে। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, সাতক্ষীরার চারটি আসন যদি জোটকে উপহার দেওয়া হয়, তবে মদিনার শাসনামলের আদলে একটি ইনসাফভিত্তিক সমাজ ও জনগণের প্রকৃত সরকার কায়েম করা হবে। তাঁর দাবি, ভবিষ্যতে ওপর থেকে কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হবে না, বরং স্থানীয় সমস্যাগুলো জনগণের সঙ্গে আলোচনা করেই সমাধান করা হবে।
বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনা প্রসঙ্গে জামায়াত আমির অত্যন্ত কঠোর বার্তা দেন। তিনি বলেন, “লুটেরা ও রাজনৈতিক দুর্বৃত্তরা দেশ থেকে প্রায় ২৮ লাখ কোটি টাকা পাচার করেছে। আমরা স্পষ্টভাবে বলছি, সুযোগ পেলে আমরা ওই অপরাধীদের পেটের ভেতর হাত ঢুকিয়ে জনগণের সম্পদ বের করে আনব। এই চোরদের ব্যাপারে আমাদের কোনো দয়া বা ক্ষমা নেই।”
যুবসমাজের কর্মসংস্থান নিয়ে তিনি এক নতুন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা যুবকদের হাতে কেবল বেকার ভাতা তুলে দিতে চাই না। আমরা চাই প্রতিটি হাতকে দেশ গড়ার কারিগরের হাত হিসেবে গড়ে তুলতে। এমন কাজের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে যেন প্রতিটি যুবক গর্বের সঙ্গে বলতে পারে—আমি এই দেশের একজন স্বাবলম্বী নাগরিক।” সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ঝুঁকি নিয়ে যারা কাজ করেন, তাঁদের জন্য আলাদা বেতন কাঠামো তৈরি করা হবে যেন তাঁরা সম্মানের সঙ্গে বাঁচতে পারেন।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি সাতক্ষীরার চারটি সংসদীয় আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের সঙ্গে জনতাকে পরিচয় করিয়ে দেন। সাতক্ষীরা-১ আসনে অধ্যক্ষ মুহাম্মদ ইজ্জত উল্লাহ, সাতক্ষীরা-২ আসনে মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক, সাতক্ষীরা-৩ আসনে মুহাদ্দিস রবিউল বাশার এবং সাতক্ষীরা-৪ আসনে গাজী নজরুল ইসলামের নাম ঘোষণা করেন তিনি। প্রার্থীদের হাতে নির্বাচনী প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লা’ তুলে দিয়ে তিনি সবাইকে পরিবর্তনের পক্ষে রায় দেওয়ার আহ্বান জানান।
জেলা জামায়াতের আমির উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুলের সভাপতিত্বে এই সমাবেশে জোটভুক্ত শরিক দলগুলোর শীর্ষ নেতারাও বক্তব্য রাখেন। সাতক্ষীরার এই জনসভা ঘিরে পুরো জেলায় এখন নির্বাচনী আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে।

