আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষতা নিয়ে বিন্দুমাত্র আপস করা হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। মঙ্গলবার দুপুরে ফেনী জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি হুঁশিয়ারি দেন, যদি কারো বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের প্রমাণ মেলে, তবে তার পরিণতি হবে অত্যন্ত ভয়াবহ।
নির্বাচন কমিশনার বলেন, “অতীতের বিভিন্ন সময়ে নির্বাচন ব্যবস্থা ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো যে ইমেজ সংকটে পড়েছে, তার মূলে ছিল স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার অভাব। আমরা সেই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি চাই না। নিরপেক্ষতার প্রশ্নে এক সুতো পরিমাণ বিচ্যুতিও বরদাশত করা হবে না।” মঙ্গলবার বেলা আড়াইটার দিকে জেলার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেল এবং ভিজিলেন্স ও অবজারভেশন টিমের সঙ্গে এই গুরুত্বপূর্ণ সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।
আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ কর্মকর্তাদের আশ্বস্ত করে বলেন, নির্বাচন কমিশন কিংবা সরকারের পক্ষ থেকে কখনোই কোনো বিশেষ প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার বা পক্ষপাতমূলক নির্দেশনা দেওয়া হবে না। তবে কোনো কর্মকর্তা যদি নিজের পছন্দ-অপছন্দের ঊর্ধ্বে উঠতে না পারেন এবং তদন্তে পক্ষপাতিত্ব প্রমাণিত হয়, তবে কমিশন তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থান নেবে।
এবারের নির্বাচনের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, এটি কেবল একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ফিরিয়ে আনার লড়াই নয়; বরং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারের একটি বড় পরীক্ষা। দীর্ঘ রাজনৈতিক অচলাবস্থা বা ‘খরার’ পর এই নির্বাচনকে তিনি ‘বৃষ্টির’ সঙ্গে তুলনা করেন। উল্লেখ্য, এবারের নির্বাচনে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের পাশাপাশি প্রথমবারের মতো পোস্টাল ব্যালট কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের প্রতি বিশেষ নির্দেশনা দিয়ে ইসি সানাউল্লাহ বলেন, “আমাদের মূল লক্ষ্য হলো সাধারণ মানুষ যাতে নির্ভয়ে এবং নির্বিঘ্নে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেন। ভোটের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কোনো অবনতি হতে দেওয়া যাবে না। আমরা যা হারিয়েছি, তা পুনরুদ্ধারে এখন সবার সমন্বিত প্রচেষ্টার বিকল্প নেই।”
সভায় সভাপতিত্ব করেন ফেনীর জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মনিরা হক। এ সময় পুলিশ সুপার মো. শফিকুল ইসলাম, বিজিবির ফেনী ব্যাটালিয়ন অধিনায়কসহ সেনাবাহিনী ও প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। নির্বাচন কমিশনারের এমন কড়া বার্তার পর জেলাজুড়ে নির্বাচনী কর্মকর্তাদের মধ্যে বাড়তি সতর্কতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

