১৫ বছরের দীর্ঘ ‘জুলুম ও নির্যাতন’ কাটিয়ে ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশ এক নতুন মুক্তি পেয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ (রোববার) দুপুরে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার সালন্দর ইউনিয়নের বরুনাগাঁও দাখিল মাদরাসা মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনী পথসভায় তিনি বলেন, “সত্যের পক্ষে ছিলাম বলেই ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর আজ আমরা মুক্ত বাতাসে বুক ভরে নিঃশ্বাস নিতে পারছি।”
ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে আয়োজিত এই সভায় মির্জা ফখরুল তার রাজনৈতিক জীবনের চড়াই-উতরাইয়ের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “বিগত সরকার আমার বিরুদ্ধে ১০০টিরও বেশি মামলা দিয়েছে।
১১ বার জেল খেটেছি, প্রায় সাড়ে তিন বছর অন্ধকার প্রকোষ্ঠে কাটিয়েছি। শুধু ঠাকুরগাঁও সদর থানাতেই আমার দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে সাড়ে সাত হাজার মামলা হয়েছিল। কিন্তু কেউ দমে যায়নি, কেউ লোভে পড়ে আওয়ামী লীগে যোগ দেয়নি। কারণ আমরা জানতাম আমরা ন্যায়ের পথে আছি।”
বক্তব্যের এক পর্যায়ে প্রতিশোধের রাজনীতি পরিহার করার আহ্বান জানান বিএনপি মহাসচিব। তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, “আগে মানুষ পুলিশের ভয়ে ঘরে ঘুমাতে পারতো না, খোলা মাঠে রাত কাটাতে হতো। এখন মানুষ অন্তত নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারছে। আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে সুন্দর একটি দেশ তৈরি করা।
ওরা মামলাবাজি করেছে বলে আমরাও পাল্টা মামলাবাজি করব—এমনটি যেন না হয়। আমাদের নেত্রী (সদ্য প্রয়াত) বেগম খালেদা জিয়া সবসময় বলেছেন, প্রতিহিংসা নয়, বরং ভালোবাসা দিয়ে নতুন বাংলাদেশ নির্মাণ করতে হবে।” একে কেউ কেউ ‘আপস’ বললেও মির্জা ফখরুল একে ‘ভ্রাতৃত্ববোধের সমাজ’ গড়ার প্রক্রিয়া হিসেবে অভিহিত করেন।
রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার নিয়ে নিজের কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, “রাজনীতিতে ধর্ম টেনে আনা পক্ষপাতিত্বের শামিল। আমরা চাই সবাই নিরাপদে থাকুক। আমাদের হিন্দু ভাই-বোনরা প্রায়ই অভিযোগ করেন যে, নির্বাচনে যে পক্ষই জিতুক না কেন, শেষ পর্যন্ত তারাই হামলার শিকার হন। এই সংস্কৃতির পরিবর্তন করতে হবে। আমি তাদের বলব, আপনারা নিজেদের ভেতর সাহস আনুন। আমরা আপনাদের পূর্ণ নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিচ্ছি।”
ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষের কাছে নিজের দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “আপনারা আমাকে ও আমার পরিবারকে চেনেন। আমি রাজনীতি করে সম্পদ গড়িনি, বরং বাপ-দাদার জমি বিক্রি করে রাজনীতি করি। আপনাদের আমানতের খেয়ানত আমি করব না।” তিনি আরও জানান, বিএনপি ক্ষমতায় এলে মায়েদের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’, কৃষকদের জন্য ‘কৃষি কার্ড’ এবং সাধারণ মানুষের জন্য ‘স্বাস্থ্য কার্ড’ চালু করা হবে, যার মাধ্যমে ন্যায্য মূল্যে চাল-ডাল ও সাশ্রয়ী চিকিৎসা নিশ্চিত করা হবে।
সবশেষে মির্জা ফখরুল আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কার ‘দুর্বৃত্তায়ন’ বন্ধের প্রতিশ্রুতি দেন এবং তার দলের কেউ এ ধরনের কাজে জড়িত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন। ঠাকুরগাঁওয়ের এই মাটি ও মানুষের সেবায় তিনি তার জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত কাজ করে যাওয়ার অঙ্গীকার করেন।

