আসন্ন জাতীয় নির্বাচন এবং দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সব ধরনের সংশয় উড়িয়ে দিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম। শুক্রবার বিকেলে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার গড়পাড়া ইমামবাড়ি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং এ নিয়ে শঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।
শফিকুল আলম দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর প্রচারণা প্রসঙ্গে বলেন, “যেখানেই বড় দলগুলো জনসভা করছে, সেখানেই লাখ লাখ মানুষের ঢল নামছে। এটিই প্রমাণ করে যে বাংলাদেশের মানুষ একটি উৎসবমুখর পরিবেশের জন্য তৃষ্ণার্ত।
গত ১৬ বছরে শেখ হাসিনা সরকারের আমলে এদেশের মানুষ সত্যিকারের কোনো নির্বাচন দেখেনি।” তিনি যোগ করেন, ভোটাররা দীর্ঘ দেড় দশক ধরে দেখেছেন কীভাবে দিনের ভোট রাতে হয়েছে কিংবা ব্যালট বাক্স ছিনতাই হয়েছে। তাই এবার তারা নির্ভয়ে নিজের ভোট দিতে মুখিয়ে আছেন।
মানিকগঞ্জে বাউলশিল্পী আবুল সরকারের ভক্তদের ওপর সাম্প্রতিক হামলার ঘটনাকে ‘ন্যক্কারজনক ও নিন্দনীয়’ বলে অভিহিত করেন প্রেসসচিব। তিনি জানান, সরকার এই বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে এবং ইতিমধ্যে পুলিশ অনেককে গ্রেপ্তার করেছে।
শফিকুল আলম বলেন, “মাজার ও বাউল সমাজ আমাদের সংস্কৃতির অংশ। এ পর্যন্ত প্রায় ৬০টি মাজার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। তবে আমরা সবাইকে আশ্বস্ত করতে চাই, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে পীরভক্ত, আলেম, হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান—এমনকি যারা কোনো ধর্মে বিশ্বাস করেন না, তারাও নিরাপদে ভোট দিতে কেন্দ্রে যাবেন।”
গণমাধ্যম সংস্কার ও তথ্য অধিকার আইন (আরটিআই) নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন শফিকুল আলম। তিনি জানান, তথ্য অধিকার আইনকে আরও সহজবোধ্য ও কার্যকর করতে একটি নতুন অধ্যাদেশ পাস করা হয়েছে। ১৮ মাসের শাসনামলে সব সংস্কার সম্পন্ন করা সম্ভব না হলেও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
আসন্ন নির্বাচনে প্রস্তাবিত ‘গণভোট’ বা ‘হ্যাঁ-না’ ভোটের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করে প্রেসসচিব বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে দীর্ঘ ৯ মাসের আলোচনার ফসল হচ্ছে এই জুলাই সনদ। তিনি বলেন, “দেশের মানুষ কেন ‘হ্যাঁ’ ভোট দেবেন, সেই বার্তা আমরা পৌঁছে দিচ্ছি। দেশে যেন আর কোনো স্বৈরাচার ফিরতে না পারে, অপশাসন বন্ধ হয় এবং ব্যাংকের টাকা লুটপাট যেন চিরতরে বন্ধ হয়—সেজন্যই এই গণভোট অপরিহার্য।”
পরিদর্শনকালে গড়পাড়া ইমামবাড়ির খাদেম আরিফুর রহমান বাবুসহ প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। শফিকুল আলম তার বক্তব্যে দৃঢ়তার সাথে পুনর্ব্যক্ত করেন যে, সরকার একটি ইনসাফভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণের লক্ষ্যেই নির্বাচনের দিকে এগোচ্ছে।

