বাগেরহাট সদর উপজেলায় এক হৃদয়বিদারক ঘটনার সাক্ষী হয়েছে সাবেকডাঙ্গা গ্রাম। নিজের ৯ মাস বয়সী একমাত্র সন্তানকে হত্যার পর কানিজ সুবর্ণা স্বর্ণালী (২২) নামে এক গৃহবধূ আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছেন। শুক্রবার দুপুরে সদর থানা পুলিশ ঘরের মেঝের ওপর পড়ে থাকা শিশুর নিথর দেহ এবং ঝুলন্ত অবস্থায় গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করে।
মর্মান্তিক এই ঘটনার শিকার কানিজ সুবর্ণা স্বর্ণালী বাগেরহাট সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল হাসান সাদ্দামের স্ত্রী এবং জাতীয় পার্টি নেতা রুহুল আমিন হাওলাদারের মেয়ে। নিহত শিশু নাজিম হোসেন ছিল এই দম্পতির একমাত্র সন্তান। পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক সুরতহালে শিশুকে পানিতে চুবিয়ে হত্যার আলামত পাওয়া গেছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর স্বর্ণালীর স্বামী জুয়েল হাসান সাদ্দাম গোপালগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার হন। বর্তমানে তিনি বিভিন্ন মামলায় যশোর কারাগারে বন্দি রয়েছেন। স্বামীর অনুপস্থিতি এবং তাকে মুক্ত করার আইনি লড়াইয়ে বারবার ব্যর্থ হওয়া স্বর্ণালীকে ঠেলে দিয়েছিল গভীর মানসিক অবসাদে।
স্বর্ণালীর ভাই শুভ কান্নায় ভেঙে পড়ে সাংবাদিকদের জানান, পাঁচ বছর আগে প্রেমের পরিণয়ে সাদ্দামের সঙ্গে তার বোনের বিয়ে হয়েছিল। স্বর্ণালী তার স্বামীকে প্রচণ্ড ভালোবাসতেন। দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে স্বামী কারাবন্দি থাকায় তিনি একা হয়ে পড়েছিলেন এবং প্রতিনিয়ত দুশ্চিন্তায় ভুগছিলেন। পরিবারের ধারণা, সেই তীব্র হতাশা থেকেই তিনি প্রথমে কোলের সন্তানকে বালতির পানিতে চুবিয়ে হত্যা করেন এবং পরে নিজে আত্মঘাতী হন।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্বর্ণালীর বাবা রুহুল আমিন হাওলাদার বিলাপ করতে করতে বলছিলেন, “আমার মেয়েটি শেষ পর্যন্ত হার মানল। আমরা এই মৃত্যুর জন্য কাউকে দায়ী করতে চাই না।” তিনি ময়নাতদন্ত ছাড়াই মা ও নাতনির মরদেহ দাফনের জন্য প্রশাসনের কাছে আবেদন জানিয়েছেন।
বাগেরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. শামীম হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে জানান, স্থানীয় বাসিন্দা এবং পরিবারের প্রাথমিক বক্তব্য অনুযায়ী এটি একটি করুণ আত্মহত্যা ও হত্যার ঘটনা। তবে মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাট ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। শনিবার সকালে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হবে।
এই ঘটনায় এলাকায় গভীর শোকের আবহ বিরাজ করছে। একটি রাজনৈতিক অস্থিরতা ও দীর্ঘ আইনি জটিলতা কীভাবে একটি সাজানো সংসার ও ফুটফুটে শিশুর জীবন কেড়ে নিল, তা নিয়ে গ্রামবাসীর মনে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন। পুলিশ জানিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

