রাজনৈতিক জীবনের দীর্ঘ লড়াই ও জেল-জুলুমের স্মৃতি আওড়ে আবারও জনগণের দ্বারে হাজির হয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার বিকেলে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার দেবিপুর ইউনিয়নের গুচ্ছগ্রাম ও শোলটহরি বাজারে নির্বাচনী প্রচারণার সময় তিনি এক আবেগঘন বক্তব্য রাখেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় হুঁশিয়ারি দেন যে, যারা একাত্তরের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল, তাদের হাতে ক্ষমতা গেলে বাংলাদেশের অস্তিত্ব সংকটে পড়বে।
নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের খতিয়ান তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, “আমার বিরুদ্ধে ১১১টি মামলা দেওয়া হয়েছে। এগারোবার আমাকে কারাগারে যেতে হয়েছে। কিন্তু আমি কোনো চুরি-ডাকাতির দায়ে জেলে যাইনি; গিয়েছি আপনাদের ভোটাধিকার আর গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের লড়াই করতে।” তিনি আরও যোগ করেন, যারা জনগণের ওপর বছরের পর বছর জুলুম চালিয়েছে, তারা আজ ভয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়েছে, অথচ সাধারণ মানুষ বুক চিতিয়ে মাঠেই আছে।
নির্বাচনী মাঠের উত্তাপ ও আগামীর চ্যালেঞ্জ নিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ আমাদের গর্বের প্রতীক। সেই যুদ্ধে যারা বিরোধিতা করেছিল এবং পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে মদত দিয়েছিল, তারা আজ নতুন করে ক্ষমতায় আসার স্বপ্ন দেখছে। তিনি ভোটারদের সতর্ক করে দিয়ে বলেন, “যারা এদেশের স্বাধীনতাই চায়নি, তারা ক্ষমতায় এলে এই দেশ টিকবে না। তারা এখন জনতুষ্টির কথা বললেও অতীতের ভুলের জন্য কখনোই ক্ষমা চায়নি।”
হিন্দু-মুসলমানসহ সকল ধর্মাবলম্বীর সহাবস্থানের কথা উল্লেখ করে তিনি জাষ্ঠিভাঙ্গায় গণহত্যার স্মৃতি স্মরণ করেন। ফখরুল বলেন, “আমরা কোনো বিভেদ চাই না। হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান—সবাই মিলে আমরা একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে চাই। আর সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য বিএনপির মতো অভিজ্ঞ দলের বিকল্প নেই।”
নির্বাচনী প্রচারণার সময় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাধারণ মানুষের হাতে লিফলেট তুলে দেন এবং কুশল বিনিময় করেন। এলাকার অনুন্নত রাস্তাঘাট ও ট্রাফিক ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি ভোটারদের আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানান। তার ভাষায়, “এবার আমাদের চূড়ান্ত লড়াই। ধানের শীষ মার্কায় ভোট দিয়ে একটি গণতান্ত্রিক ও ইনসাফের সরকার গঠনের সুযোগ দিন।”
সমাবেশে উপস্থিত স্থানীয় প্রবীণ ভোটারদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, গত ১৫ বছরের দুঃশাসন থেকে মুক্তি পেতে হলে এই নির্বাচনে ভোটের মাধ্যমেই জবাব দিতে হবে। এ সময় তার সাথে জেলা বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ও বিপুল সংখ্যক কর্মী-সমর্থক উপস্থিত ছিলেন। পুরো এলাকা ধানের শীষের স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে।

