২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের উত্তরাঞ্চলে প্রচারণার পারদ এখন তুঙ্গে। শুক্রবার বিকেলে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় অংশ নিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান তার দলের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে বেকারদের হাতে সামান্য ভাতার টাকা তুলে দিয়ে তাদের অসম্মান করবে না, বরং টেকসই কর্মসংস্থান নিশ্চিত করবে।
বিকেল সোয়া চারটার দিকে জনাকীর্ণ বড় মাঠে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “অনেকে বেকার ভাতার কথা বলেন, কিন্তু আমরা মনে করি এটি যুবসমাজের জন্য অবমাননাকর। আমরা প্রতিটি ঘরকে একটি করে ইন্ডাস্ট্রিতে পরিণত করতে চাই। আমাদের লক্ষ্য বেকার ভাতা নয়, বরং কর্মসংস্থান।” যুবকদের স্বাবলম্বী করে তোলার মাধ্যমেই দেশের প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব বলে তিনি মন্তব্য করেন।
দেশের ভবিষ্যৎ শাসনব্যবস্থা নিয়ে জামায়াত আমির তিনটি সুনির্দিষ্ট শর্তের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে প্রথমত, কোনো দুর্নীতি করবে না এবং কোনো দুর্নীতিবাজকে প্রশ্রয় দেবে না। দ্বিতীয়ত, প্রতিটি নাগরিকের জন্য সমান ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে। আর তৃতীয়ত, দেশে বিদ্যমান সকল প্রকার বৈষম্যের অবসান ঘটিয়ে গণভোটের মাধ্যমে জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটানো হবে।
উত্তরাঞ্চলের উন্নয়ন নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, গত কয়েক দশকে একদল ‘ধুরন্ধর’ শাসক এই অঞ্চলের মানুষকে পরিকল্পিতভাবে গরিব করে রেখেছে। তিনি অভিযোগ করেন, দুর্নীতি ও অপশাসনের কারণে উত্তরাঞ্চল তার প্রাপ্য সম্ভাবনা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। অথচ সঠিক নেতৃত্ব থাকলে এই অঞ্চলটি হতে পারত দেশের কৃষিভিত্তিক শিল্পের রাজধানী।
কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে, আগামীর বাংলাদেশ চলবে ইনসাফ বা ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে। সেখানে কৃষকরা তাদের হাড়ভাঙা খাটুনিতে উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য সরাসরি পাবেন, কোনো মধ্যস্বত্বভোগী তাদের ঠকাতে পারবে না। এছাড়া চিকিৎসা সেবাকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে দেশের প্রতিটি জেলায় একটি করে মানসম্মত মেডিকেল কলেজ স্থাপনের অঙ্গীকারও করেন তিনি।
জনসভায় জেলা জামায়াতের আমির বেলাল উদ্দিন প্রধানের সভাপতিত্বে স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। উল্লেখ্য, ডা. শফিকুর রহমান তার এই সফরের অংশ হিসেবে এর আগে পঞ্চগড় ও দিনাজপুরে নির্বাচনী জনসভা সম্পন্ন করেছেন। সফরের পরবর্তী ধাপে আগামীকাল শনিবার তিনি রংপুরে বীর শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করবেন এবং জনসভায় অংশ নেবেন। এরপর গাইবান্ধা, বগুড়া ও সিরাজগঞ্জ হয়ে ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে তার।
নির্বাচনী এই জনসভাকে কেন্দ্র করে ঠাকুরগাঁও ও আশেপাশের জেলাগুলোতে জামায়াত কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ লক্ষ্য করা গেছে। স্থানীয় রাজনীতি বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ‘বেকার ভাতার বদলে কর্মসংস্থান’—এই স্লোগান তরুণ ভোটারদের মধ্যে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিচ্ছে।

