আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে গাজীপুরের টঙ্গীতে বড় ধরনের অভিযান চালিয়েছে যৌথবাহিনী। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) ভোরে টঙ্গীর অপরাধপ্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত এরশাদনগর ও হাজী মাজার বস্তিতে এই ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য, দেশীয় ধারালো অস্ত্র এবং তিনটি তাজা হাতবোমাসহ মোট ৩৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
শুক্রবার বেলা ১১টায় টঙ্গীর হাজী মাজার বস্তি এলাকায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অভিযানের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন গাজীপুর জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবু বক্কর সিদ্দিক। তিনি জানান, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত থেকে শুরু হওয়া এই টাস্কফোর্সের সাঁড়াশি অভিযান চলে শুক্রবার ভোর পর্যন্ত। যৌথবাহিনীর পৃথক দুটি দল সমন্বিতভাবে এরশাদনগর ও হাজী মাজার বস্তির বিভিন্ন কক্ষে তল্লাশি চালিয়ে এই সাফল্য পায়।
উদ্ধারকৃত মালামাল: মাদকদ্রব্য: প্রায় ১ কেজি হেরোইন এবং ৩৪৭ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট। অস্ত্র ও বিস্ফোরক: ৩টি তাজা হাতবোমা এবং বেশ কিছু দেশীয় তৈরি ধারালো অস্ত্র।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, “নির্বাচনের আগে কোনো ধরনের অপরাধী বা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টিকারীকে ছাড় দেওয়া হবে না। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং বস্তি এলাকাগুলোকে অপরাধমুক্ত রাখতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের যৌথ অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
টঙ্গী পূর্ব থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদি হাসান জানান, যৌথবাহিনীর হাতে আটক ৩৫ জনকে ইতোমধ্যে টঙ্গী পূর্ব ও পশ্চিম থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মাদক ও অস্ত্র আইনে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে গ্রেফতারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক সংলগ্ন এই বস্তিগুলো দীর্ঘদিন ধরেই মাদক কারবারি ও ছিনতাইকারীদের অভয়ারণ্য হিসেবে পরিচিত। যৌথবাহিনীর এই অভিযানে জনমনে স্বস্তি ফিরলেও, অপরাধীরা যেন পুনরায় জামিনে বেরিয়ে এসে একই কর্মকাণ্ডে লিপ্ত না হতে পারে, সে বিষয়ে প্রশাসনের কড়া নজরদারি দাবি করেছেন তারা।

