নির্বাচনী প্রতীক হাতে পাওয়ার পরপরই আনন্দের অতিশয্যে নিয়ম ভাঙার মাশুল দিতে হলো এক প্রার্থীকে। কুমিল্লার চান্দিনায় নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মাওলানা এহতেশামুল হক কাসেমীকে নগদ ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। বুধবার বিকেলে চান্দিনা পৌর বাজার এলাকায় এই ঘটনা ঘটে, যা স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে বেশ আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
নির্বাচনী তফসিল অনুযায়ী, প্রতীক বরাদ্দের পরদিন থেকে আনুষ্ঠানিক প্রচারণা চালানোর নিয়ম থাকলেও সেই বিধি তোয়াক্কা করেননি হাতপাখা প্রতীকের এই প্রার্থী। বুধবার বিকেলেই চান্দিনা মোকামবাড়ি শাহী ঈদগাহ মাঠ থেকে এক বিশাল শোডাউন বের করেন তিনি। মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা স্লোগান দিয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের একাংশসহ চান্দিনা উপজেলা সদরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করেন। জনাকীর্ণ এলাকায় এই আকস্মিক শোডাউনটি ভ্রাম্যমাণ আদালতের নজরে আসে।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও চান্দিনা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফয়সাল আল নুর বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানান, প্রচারণা শুরু করার জন্য নির্ধারিত সময়ের আগেই বড় ধরনের জমায়েত ও শোডাউন করা নির্বাচনী আচরণবিধির স্পষ্ট লঙ্ঘন। এই অপরাধে মাওলানা এহতেশামুল হক কাসেমীকে তাৎক্ষণিকভাবে জরিমানা করা হয়।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে আরও বলেন, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দিতে প্রশাসন বদ্ধপরিকর। মাঠ পর্যায়ে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং সব প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে। নিয়ম ভাঙলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দেন তিনি।
এদিকে জরিমানা ও অভিযোগের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে অভিযুক্ত প্রার্থী মাওলানা এহতেশামুল হক কাসেমীর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তার ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার ফোন করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া গেছে। দলের স্থানীয় নেতৃবৃন্দও তাৎক্ষণিকভাবে এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) আসনের নির্বাচনী প্রেক্ষাপট এমনিতেই বেশ উত্তপ্ত। এই আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন সাবেক এলডিপি মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমেদ। তবে দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে এখানে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন চান্দিনা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আতিকুল ইসলাম শাওন। দলীয় কোন্দল আর স্বতন্ত্র প্রার্থীদের আনাগোনায় এই আসনটি এখন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মূল আকর্ষণে পরিণত হয়েছে।
অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় জোটের সমঝোতায় এই আসনে খেলাফত মজলিসের সোলাইমান খানকে সমর্থন দেওয়া হয়েছে। জোটের স্বার্থে জামায়াতের মনোনীত প্রার্থী মাওলানা মোশাররফ হোসেন তার মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। ফলে ভোটের সমীকরণ এখানে বেশ জটিল হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যেই ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থীর এই জরিমানা হওয়াটা নির্বাচনী লড়াইয়ে নতুন এক মাত্রা যোগ করল।
চান্দিনার সাধারণ ভোটারদের মধ্যে প্রশাসনের এই তৎপরতা ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, নির্বাচনের আগে যদি নিয়ম-কানুনের সঠিক প্রয়োগ থাকে, তবে প্রার্থীদের মধ্যে শৃঙ্খলা বজায় থাকবে এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমবে। বিশেষ করে মহাসড়কে শোডাউন করে যানজট সৃষ্টির প্রবণতা কঠোর হাতে দমন করা জরুরি বলে মনে করছেন তারা।
সার্বিকভাবে, প্রতীক বরাদ্দের প্রথম দিনেই এমন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা অন্য প্রার্থীদের জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করা হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, আগামী দিনের প্রচারণায় রাজনৈতিক দলগুলো কতটা সহনশীলতা ও বিধি মেনে চলার পরিচয় দেয়।

