নাটকীয় এক মোড় শেষে উচ্চ আদালতের আদেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ ফিরে পেয়েছেন কক্সবাজার-৩ (সদর-রামু-ঈদগাঁও) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ ইলিয়াছ মিয়া। মঙ্গলবার বিকেলে উচ্চ আদালতের শুনানিতে তার মনোনয়ন বৈধ ঘোষণার পর এ তথ্য নিশ্চিত করেছে তার সমর্থিত সংগঠন ‘কক্সবাজার ইনিশিয়েটিভ’।
এর আগে মনোনয়ন বাতিল হওয়ায় ক্ষোভে ও অভিমানে সপরিবারে দেশ ছাড়ার ঘোষণা দিয়ে দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছিলেন এই পরিবেশ ও মানবাধিকার কর্মী। তবে শেষ পর্যন্ত আইনি লড়াইয়ে জয়ী হয়ে তিনি আবারও নির্বাচনী ময়দানে ফিরলেন।
ঘটনার সূত্রপাত গত ৩ জানুয়ারি। কক্সবাজার জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ ইলিয়াছ মিয়ার মনোনয়ন পত্রটি বাতিল ঘোষণা করেন। বাতিলের কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল— স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জমা দেওয়া ১ শতাংশ ভোটারের তথ্যে অসঙ্গতি ও তথ্যের গরমিল।
তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের আইনি মারপ্যাঁচ ব্যবহার করে তাকে নির্বাচনের বাইরে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছিলেন ইলিয়াছ মিয়া। ওই সময় তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আবেগঘন এক পোস্টে জানিয়েছিলেন, দেশ পরিবর্তন হলেও প্রশাসনের আচরণের কোনো পরিবর্তন হয়নি। এই অভিমানে তিনি পরিবারসহ কানাডা চলে যাওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা জানান।
ইলিয়াছ মিয়ার দেশ ছাড়ার ঘোষণায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। তবে তার সংগঠন ‘কক্সবাজার ইনিশিয়েটিভ’ এবং মাঠপর্যায়ের কর্মীরা তাকে সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের জন্য চাপ দেন। ইলিয়াছ মিয়া বলেন, “আমি ভেবেছিলাম এই নতুন বাংলাদেশেও হয়তো ন্যায়বিচার পাব না। কিন্তু আমার কর্মী-সমর্থকদের সাহস ও অনুরোধে আমি সিদ্ধান্ত বদলে আদালতের শরণাপন্ন হই।”
মঙ্গলবার বিকেলে উচ্চ আদালতের আদেশের পর এক বিবৃতিতে ইলিয়াছ মিয়া বলেন, “আওয়ামী লীগ আমলের কৌশল দিয়ে আমার প্রার্থিতা অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে সত্যের জয় হয়েছে। আমি এখন পুরোদমে নির্বাচনী মাঠে থাকব।” তিনি ‘কক্সবাজার মডেল পলিটিক্স’ বাস্তবায়নে ভোটারদের দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেছেন।
কক্সবাজার-৩ আসনে ইলিয়াছ মিয়ার প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার খবরে স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে নতুন করে কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে। পরিবেশ রক্ষা এবং মানবাধিকার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করা এই প্রার্থীর ফিরে আসা নির্বাচনী সমীকরণে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
সদর, রামু ও ঈদগাঁও উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে ইলিয়াছ মিয়া তার নিজস্ব ‘ইনিশিয়েটিভ’ প্লাটফর্ম থেকে প্রচারণা চালাবেন। উচ্চ আদালতের এই সিদ্ধান্তকে গণতন্ত্রের বিজয় হিসেবে দেখছেন তার সমর্থকরা। নির্বাচনী ময়দানে শেষ পর্যন্ত তিনি কতটা প্রভাব ফেলতে পারেন, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

