“বিগত তিনটি নির্বাচনে দেশের মানুষ ভোট দিতে পারেনি। ভোটকেন্দ্রের মাঠে ভোটারদের বদলে ছাগল চড়ে বেড়াতে দেখা গেছে। তবে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সেই দৃশ্য আর দেখা যাবে না; কেন্দ্রগুলো ভোটারদের উপস্থিতিতে পরিপূর্ণ হয়ে উঠবে।” মঙ্গলবার দুপুরে সুনামগঞ্জের ঐতিহ্য জাদুঘর প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক গণসচেতনতামূলক সভায় ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন এসব কথা বলেন।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দেশের ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিন হিসেবে উল্লেখ করে তিনি জানান, সেদিন একই সাথে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। ফ্যাসিস্ট সরকারের অধীনে বিগত নির্বাচনগুলোকে ‘প্রহসন’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে এবারই প্রথম একটি প্রকৃত অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের আয়োজন করা হচ্ছে।
উপদেষ্টা খালিদ হোসেন তার বক্তব্যে বিগত শাসনব্যবস্থার তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, অতীতে ভোট দেওয়ার কোনো পরিবেশ ছিল না, বরং রাষ্ট্রীয় যন্ত্র ব্যবহার করে জনগণের ভোটাধিকার হরণ করা হয়েছিল। এবার অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সেই কলঙ্কময় অধ্যায় মুছে ফেলতে বদ্ধপরিকর। তিনি ভোটারদের আশ্বস্ত করে বলেন, “মানুষ উৎসবমুখর পরিবেশে কেন্দ্রে আসবে এবং পছন্দের প্রার্থীকে কোনো ভয়ভীতি ছাড়াই ভোট দিতে পারবে।”
গণভোটের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, এই ভোটের মাধ্যমেই দেশের রাজনৈতিক চেহারায় আমূল পরিবর্তন আসবে। মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রকৃত প্রতিফলন ঘটাতে এবং ভবিষ্যতে কোনো স্বৈরশাসকের পুনরুত্থান রুখতে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত হওয়া জরুরি। তাঁর মতে, এটি কেবল একটি নির্বাচন নয়, বরং দেশবাসীকে সর্বগ্রাসী ফ্যাসিবাদ থেকে চিরতরে মুক্তি দেওয়ার একটি মাধ্যম।
নির্বাচন ও গণভোটের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে সরকারি কর্মকর্তাদের কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ধর্ম উপদেষ্টা। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, “জেলা বা উপজেলা পর্যায়ের কোনো সরকারি কর্মকর্তা যদি কোনো নির্দিষ্ট দল বা প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণায় নামেন বা পক্ষপাতিত্ব করেন, তবে উপযুক্ত প্রমাণসহ নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ করুন।” তিনি আরও বলেন, কমিশন এ বিষয়ে বিন্দুমাত্র ছাড় দেবে না এবং নির্বাচনী বিধি মোতাবেক তাৎক্ষণিক কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
হবিগঞ্জের পর সুনামগঞ্জের এই জনসভায় ধর্ম উপদেষ্টা বারবার রাজনৈতিক সংস্কৃতির ইতিবাচক পরিবর্তনের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, অতীতে ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করতে সংবিধানকে বারবার নিজেদের মতো করে কাটছাঁট করা হয়েছে। এবার গণভোটের মাধ্যমে এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে যাতে কোনো সরকার চাইলেই নিজের প্রয়োজনে সংবিধান পরিবর্তন করতে না পারে।
বক্তব্যের শেষ দিকে তিনি জনগণকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে দুটি ব্যালট পেপার থাকবে—সাদা ও গোলাপি। একটি সংসদ নির্বাচনের জন্য এবং অন্যটি গণভোটের জন্য। তিনি মনে করেন, এই দ্বিমুখী ভোটাভুটি বাংলাদেশের রাজনীতিতে সুস্থ ধারার সূচনা করবে।
সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় ধর্ম মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও স্থানীয় সুধীজন উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত নেতৃবৃন্দ একমত পোষণ করেন যে, ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে এই নির্বাচন ও গণভোট মাইলফলক হয়ে থাকবে।

