ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে আজ সোমবার দুপুরে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের হাত থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছেন চারজন আরোহী। মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার কুচিয়ামোড়া ব্রিজ এলাকায় একটি চলন্ত অ্যাম্বুলেন্সে হঠাৎ আগুন ধরে গেলে এই আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। রোগী বহনকারী গাড়িটি দাউ দাউ করে জ্বলতে থাকলেও দ্রুত যাত্রীরা নেমে যেতে সক্ষম হওয়ায় কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুর ২টার দিকে মাওয়ামুখী লেনে এই দুর্ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা থেকে এক রোগীকে নিয়ে অ্যাম্বুলেন্সটি (ঢাকা মেট্রো ছ ৭১-৪৫৩১) মাগুরার উদ্দেশ্যে যাচ্ছিল। পথে সিরাজদিখানের কুচিয়ামোড়া এলাকায় পৌঁছালে ইঞ্জিন থেকে ধোঁয়া বের হতে শুরু করে এবং মুহূর্তেই পুরো গাড়িতে আগুন ছড়িয়ে পড়ে।
গাড়িটিতে রোগীসহ মোট চারজন আরোহী ছিলেন। আগুনের শিখা তীব্র হওয়ার আগেই চালক গাড়িটি থামিয়ে দেন এবং আরোহীরা দ্রুত রাস্তায় নেমে আসেন। মুন্সীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক মুহাম্মদ সফিকুল ইসলাম জানান, যাত্রীদের উপস্থিত বুদ্ধির কারণে বড় ধরনের কোনো ট্র্যাজেডি ঘটেনি। তবে হাইওয়ের ওপর জ্বলন্ত গাড়ি দেখে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
খবর পেয়ে সিরাজদিখান ফায়ার স্টেশনের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ততক্ষণে অ্যাম্বুলেন্সটির বেশিরভাগ অংশ পুড়ে যায়। সিরাজদিখান ফায়ার সার্ভিসের ওয়্যারহাউজ ইন্সপেক্টর মো. আরিফ আনোয়ার জানান, প্রাথমিক তদন্তে মনে করা হচ্ছে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে শর্ট সার্কিট থেকে এই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। এই দুর্ঘটনায় গাড়িটির আনুমানিক ৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অগ্নিকাণ্ডের সময় মাওয়ামুখী লেনে কিছুক্ষণ যান চলাচল বিঘ্নিত হয়। কৌতূহলী মানুষ ও নিরাপত্তাজনিত কারণে লেনের একপাশে গাড়ি আটকে যাওয়ায় ছোটখাটো জট সৃষ্টি হয়। তবে ফায়ার সার্ভিস ও হাইওয়ে পুলিশ দ্রুত পুড়ে যাওয়া গাড়িটি সরিয়ে নিলে পরিস্থিতি পুনরায় স্বাভাবিক হয়।
বর্তমানে এক্সপ্রেসওয়েতে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। অ্যাম্বুলেন্সের যাত্রীদের বিকল্প ব্যবস্থায় তাদের গন্তব্যে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। শীতকালীন শুষ্ক মৌসুমে যানবাহনের ফিটনেস ও যান্ত্রিক অবস্থা নিয়মিত পরীক্ষা করার জন্য চালকদের পরামর্শ দিয়েছেন ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তারা।

