আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে নির্বাচনী লড়াইয়ের ময়দান থেকে দ্বৈত নাগরিকত্বধারী এবং ঋণখেলাপিদের পুরোপুরি দূরে রাখার দাবি জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির সদস্য সচিব আখতার হোসেন হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যারা ব্যবসার নামে সরকারের ট্যাক্স ফাঁকি দিচ্ছেন কিংবা বিদেশের নাগরিকত্ব নিয়ে দেশে রাজনীতি করতে চান, তাদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কোনো অধিকার নেই।
আজ রবিবার (১৮ জানুয়ারি) দুপুরে রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার মদনখালী ইউনিয়নের জাফরপাড়া বাবনপুর গ্রামে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের মহানায়ক শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি। দেশব্যাপী জাতীয় ছাত্রশক্তির গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে প্রচারণা কার্যক্রম শুরু উপলক্ষ্যে তিনি সেখানে যান।
আখতার হোসেন নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, “নির্বাচন কমিশন যদি কোনো বিশেষ দলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কারণে কোনো ধরনের বৈষম্যমূলক আচরণ করে, তবে এনসিপিসহ আমাদের ১০ দলীয় জোট রাজপথে কঠোর প্রতিবাদ জানাবে। আমরা চাই একটি স্বচ্ছ ও দায়বদ্ধ নির্বাচন কমিশন, যারা ঋণখেলাপি ও কর ফাঁকিবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেবে।”
গণভোট নিয়ে চলমান বিতর্ক প্রসঙ্গে তিনি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেন, “দিন শেষে কোনো ‘না’ ভোটের ক্যাম্পেইন সফল হবে না। বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ, শিক্ষক, কৃষক, আলেম, বুদ্ধিজীবী থেকে শুরু করে সর্বস্তরের জনতা নতুন বাংলাদেশের পক্ষে, সংস্কারের পক্ষে এবং ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে তাদের চূড়ান্ত রায় প্রদান করবে। জাতীয় ছাত্রশক্তি এই চব্বিশের স্পিরিট নিয়ে প্রতিটি মানুষের দ্বারে দ্বারে পৌঁছাবে।”
বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি শহীদ হাদিসহ সকল বিপ্লবীর খুনিদের বিচারের দাবি জানান। তিনি বলেন, “ফ্যাসিস্ট লীগের দোসর এবং এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত প্রতিটি অপরাধীকে বাংলাদেশের মাটিতেই বিচারের মুখোমুখি করা হবে। তাদের কার্যকর শাস্তি নিশ্চিত করা আমাদের জাতীয় অঙ্গীকার।”
কবর জিয়ারত শেষে আখতার হোসেন এবং জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ শহীদ আবু সাঈদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের সার্বিক খোঁজ-খবর নেন। এ সময় পরিবারের সদস্যদের প্রতি সহমর্মিতা জানিয়ে তিনি বলেন, আবু সাঈদের আত্মত্যাগই আজকের নতুন বাংলাদেশের ভিত্তি।
রংপুরের এই সফর থেকে আখতার হোসেনের বার্তাটি স্পষ্ট—সংস্কারপন্থী শক্তিগুলো কোনোভাবেই পুরোনো ব্যবস্থার কাউকে নির্বাচনে ছাড় দিতে রাজি নয়। এখন দেখার বিষয়, ১০ দলীয় জোটের এই চাপের মুখে নির্বাচন কমিশন তাদের নীতিমালায় কোনো পরিবর্তন আনে কি না।

