শেরপুরের নকলা উপজেলায় এক মর্মান্তিক ও শিউরে ওঠার মতো নৃশংসতার ঘটনা ঘটেছে। পারিবারিক বিবাদের জেরে নিজের ছয় বছর বয়সী শিশুকন্যা মরিয়মকে গলা টিপে হত্যা করেছেন তার জন্মদাতা বাবা। এখানেই শেষ নয়, চার বছর বয়সী ছোট মেয়ে মিমকেও হত্যার চেষ্টা চালিয়েছেন তিনি। বর্তমানে মিম আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালের বিছানায় মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে।
আজ রবিবার সকালে নকলা উপজেলার চর অষ্টধর ইউনিয়নের চর বসন্তী (মধ্যপাড়া) এলাকায় এই পৈশাচিক ঘটনাটি ঘটে। অভিযুক্ত বাবার নাম বাবু মিয়া (৩০), যিনি পেশায় একজন অটোরিকশা চালক। ঘটনার পর স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশ দ্রুত তাকে আটক করতে সক্ষম হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রবি মিয়ার ছেলে বাবু মিয়ার সঙ্গে তার স্ত্রীর দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক কলহ চলছিল। তিক্ততা এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, তার স্ত্রী স্বামীর ঘর ছেড়ে বাবার বাড়িতে চলে যান। এরপর বাবু মিয়া তার দুই শিশুকন্যাকে নিয়ে জীবিকার তাগিদে ঢাকায় অবস্থান করছিলেন। সম্প্রতি তিনি ঢাকা থেকে গ্রামে ফেরেন।
আজ ভোরে হঠাৎ করেই বাবু মিয়া তার বড় মেয়ে মরিয়মের ওপর চড়াও হন এবং তাকে গলা টিপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। বড় মেয়ের মৃত্যু নিশ্চিত করার পর তিনি ছোট মেয়ে মিমকেও একইভাবে হত্যার চেষ্টা চালান। তবে শিশুদের আর্তচিৎকার শুনতে পেয়ে প্রতিবেশীরা দ্রুত সেখানে ছুটে আসেন এবং বাবু মিয়াকে বাধা দেন। স্থানীয়রা রক্তাক্ত ও সংজ্ঞাহীন অবস্থায় মিমকে উদ্ধার করে দ্রুত নকলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য পুলিশের সহযোগিতায় তাকে শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
চর অষ্টধর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য দুলাল হোসেন এই ঘটনার আকস্মিকতায় স্তম্ভিত। তিনি জানান, “পারিবারিক অশান্তি যে এমন ভয়াবহ রূপ নিতে পারে, তা কল্পনা করা যায় না। আমরা যতটুকু শুনেছি, স্ত্রীর সঙ্গে জেদ করেই এই অবুঝ শিশুদের ওপর তিনি ক্ষোভ ঝেড়েছেন। বিস্তারিত আরও জানার চেষ্টা করছি।”
নকলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রিপন চন্দ্র গোপ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, অভিযুক্ত বাবা বাবু মিয়াকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “প্রাথমিকভাবে আমরা নিশ্চিত হয়েছি যে এটি পারিবারিক বিবাদেরই ফলাফল। একজন বাবা কীভাবে তার নিজের সন্তানদের ওপর এমন নৃশংসতা চালাতে পারেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মামলার প্রক্রিয়া চলছে এবং বিষয়টি নিয়ে আমরা নিবিড়ভাবে তদন্ত করছি।”
শেরপুর জেলা সদর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চার বছরের শিশু মিমের অবস্থা এখনো আশঙ্কাজনক। তার গলায় গভীর ক্ষত ও আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এদিকে মরিয়মের নিথর দেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।
শান্ত ও নিভৃত এই গ্রামে এমন পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের পাশাপাশি তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। এক মুহূর্তের রাগ আর জেদ কীভাবে একটি সুন্দর সাজানো সংসার আর নিষ্পাপ প্রাণ কেড়ে নিতে পারে, এই ঘটনা যেন তারই এক নির্মম দৃষ্টান্ত হয়ে রইল।

