আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন করতে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী (ভিডিপি) এক অনন্য ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, আনসার ও ভিডিপি কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের বাহিনী নয়, বরং এটি রাষ্ট্রের সাধারণ জনগণের ট্যাক্সের টাকায় পরিচালিত একটি গর্বিত বাহিনী।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার সফিপুরে অবস্থিত বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি একাডেমিতে আয়োজিত এক সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এদিন ৪১তম বিসিএস (আনসার) কর্মকর্তাদের ২১তম মৌলিক প্রশিক্ষণ এবং রিক্রুট সিপাহিদের (পুরুষ) ২৬ ও ২৭তম ব্যাচের প্রশিক্ষণের সমাপনী অনুষ্ঠিত হয়।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরাপত্তার নিশ্ছিদ্র চাদর তৈরি করতে সারা দেশের ৪২ হাজার ৭৬৬টি ভোটকেন্দ্রের প্রতিটিতে ১৩ জন করে আনসার ও ভিডিপি সদস্য মোতায়েন করা হবে। এই বিশাল কর্মযজ্ঞে সর্বমোট ৫ লাখ ৫৫ হাজার ৯৫৮ জন সদস্য সরাসরি নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করবেন।
নিরাপত্তা বিন্যাসের বিস্তারিত তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে নিয়োজিত ১৩ জন সদস্যের মধ্যে ৩ জন থাকবেন অস্ত্রধারী, ৬ জন অস্ত্রবিহীন পুরুষ এবং ৪ জন অস্ত্রবিহীন নারী সদস্য। বিশেষ নিরাপত্তার অংশ হিসেবে এবারই প্রথম প্রতিটি কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তার সঙ্গে একজন অস্ত্রধারী আনসার সদস্য সার্বক্ষণিক নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবেন। এছাড়া সারা দেশে ১ হাজার ১৯১টি স্ট্রাইকিং ফোর্স টিম মোতায়েন থাকবে, যেখানে আরও ১১ হাজার ৯১০ জন সদস্য কাজ করবেন।
নবীন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “আপনাদের সাহস মানে শুধু বিপদের মুখে দাঁড়িয়ে থাকা নয়; সাহস মানে অন্যায়ের বিরুদ্ধে ‘না’ বলা। কোনো অবস্থাতেই অনৈতিক বা পক্ষপাতমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে নির্বাচন প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করা যাবে না।” তিনি দুর্নীতিকে রাষ্ট্রের এক নম্বর শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করে বলেন, লোভ বা রাজনৈতিক সুবিধার বশবর্তী হয়ে কাজ করা মানে রাষ্ট্রের ভিত্তিকে দুর্বল করে দেওয়া।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, গত বছরের আগস্ট মাস থেকেই আনসার বাহিনী নির্বাচনের জন্য পরিকল্পিত প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। ইতোমধ্যে প্রায় ২ লাখ ৫৫ হাজার ভিডিপি সদস্য এবং ৩ হাজারের বেশি ব্যাটালিয়ন সদস্যকে আধুনিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সাড়ে ৪ লাখ সদস্যের তথ্য একটি বিশেষ সফটওয়্যারের (STDMS) মাধ্যমে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে, যাতে স্বচ্ছতার সাথে তাদের মোতায়েন করা যায়।
অনুষ্ঠানে জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী আনসার বাহিনীর উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, তৃণমূল সদস্যদের আর্থসামাজিক মানোন্নয়নে ‘সঞ্জীবন’ প্রকল্প দেশের ১২টি জেলায় সফলভাবে চালু হয়েছে। এছাড়া বাহিনীর সদস্যদের দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করে বিদেশের বাজারে জনশক্তি রপ্তানির বিষয়েও বিভিন্ন দপ্তরের সাথে আলোচনা চলছে।
এর আগে সকাল সাড়ে ১০টায় ইয়াদ আলী প্যারেড গ্রাউন্ডে পৌঁছালে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাকে লাল গালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয়। তিনি সুসজ্জিত জিপে চড়ে প্যারেড পরিদর্শন করেন এবং চৌকস প্রশিক্ষকদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। অনুষ্ঠানে আনসার ও ভিডিপি’র মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ, অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মামুনুর রশিদসহ বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

