ফরিদপুর মেডিকেল কলেজে ছাত্রদলের স্বাভাবিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে না দিলে প্রয়োজনে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক জুলফিকার হোসেন ওরফে জুয়েল। তার এই বক্তব্য সম্বলিত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর জেলাজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) দুপুরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ মিলনায়তনে বিএনপিপন্থি চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) আয়োজিত এক দোয়া মাহফিলে তিনি এই মন্তব্য করেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল।
ভাইরাল হওয়া ৪ মিনিট ১৭ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, বিএনপি নেতা জুলফিকার হোসেন প্রশাসনের প্রতি কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করছেন। তিনি বলেন, “প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ রেখে যাব, অতীত ভুলে যান। ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। এরপরও যদি আমার জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলকে এখানে সশরীরে উপস্থিত হয়ে স্বাভাবিক রাজনীতি করতে না দেওয়া হয়, তবে পরিস্থিতি ভয়াবহ হবে।”
তিনি আরও যোগ করেন, “আমার ছাত্রদল যদি রাজনীতি করতে না পারে, তবে এই মেডিকেল কলেজে সব রাজনীতি বন্ধ করে দেব। আর ছাত্ররাজনীতি বন্ধ হলে এই মেডিকেল কলেজও বন্ধ হয়ে যাবে। আমাদের এমন মেডিকেল কলেজের প্রয়োজন নেই।”
নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে জুলফিকার হোসেন দাবি করেন, ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে একাডেমিক কাউন্সিলের এক সিদ্ধান্তে কলেজে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করা হলেও নেপথ্যে ছাত্রশিবির সক্রিয় রয়েছে। তিনি বলেন, “মেডিকেলে রাজাকারের আশীর্বাদে রাজনীতি হবে, অথচ মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডারের গড়া সংগঠন ছাত্রদল রাজনীতি করতে পারবে না—এটা হতে পারে না। প্রয়োজনে আমি বিএনপির পদ ছেড়ে আবার ছাত্রদলে যোগ দিয়ে মাঠে নামব।”
পরবর্তীতে সাংবাদিকদের তিনি জানান, মূলত কলেজ প্রশাসন ও ছাত্রশিবিরকে চাপে রাখতেই তিনি এই বক্তব্য দিয়েছেন। তার অভিযোগ, সাধারণ ছাত্রদের ব্যানারে শিবির গোপনে সক্রিয় থাকলেও ছাত্রদলকে ক্যাম্পাসে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। এমনকি আজকের ড্যাবের অনুষ্ঠানেও সাধারণ ছাত্রদের আসতে বাধা দেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ খান মো. আরিফ ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকলেও বিএনপি নেতার এমন বিতর্কিত বক্তব্যের বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি জানান, অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকলেও বক্তব্যের সব কথা তার ঠিক স্মরণে নেই।
উল্লেখ্য যে, ২০২৪ সালের ২৪ আগস্ট ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় ক্যাম্পাসে সব ধরনের ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। এরপর থেকে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসকে রাজনীতিমুক্ত রাখার পক্ষে অবস্থান নিলেও বিভিন্ন রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠনের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
ড্যাব ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ শাখার আহ্বায়ক সৈয়দ আসিফ উল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সভায় কেন্দ্রীয় ড্যাবের কোষাধ্যক্ষ মেহেদী হাসান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার শান্তি কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

