ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা স্থানীয় রাজনীতিতে এক নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছেন। রোববার বিকেলে সরাইল উপজেলার কালিকচ্ছ ইউনিয়নের ধরন্তী গ্রামে এক নির্বাচনী উঠান বৈঠকে তিনি ঘোষণা করেছেন, সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে তিনি নিজের চিকিৎসা এই এলাকার সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকেই শুরু করবেন। একইসঙ্গে তিনি ভোটারদের অভয় দিয়ে বলেছেন, সংসদে অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করার যে ক্ষমতা তার আছে, তা গত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেই প্রমাণিত হয়েছে।
দেশের প্রচলিত রাজনীতিতে সংসদ সদস্যদের বিদেশে গিয়ে চিকিৎসা নেওয়ার সংস্কৃতির সমালোচনা করে রুমিন ফারহানা বলেন, “আমাদের এমপিরা সামান্য সর্দি-জ্বরেও লন্ডন বা সিঙ্গাপুর চলে যান। কিন্তু আমি যদি নির্বাচিত হই, তবে আমার প্রাথমিক চিকিৎসা হবে এই সরাইল-আশুগঞ্জের সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকেই। যখন কোনো এমপি নিজে লাইনে দাঁড়িয়ে চিকিৎসা নেবে, তখন সেখানে ডাক্তার থাকবে, বিনামূল্যে ওষুধ মিলবে এবং যন্ত্রপাতিও সচল হবে।” তিনি মনে করেন, জনসেবার মান উন্নয়নের জন্য জনপ্রতিনিধিদের সাধারণ মানুষের কাতারে আসা জরুরি।
দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন সাবেক এই সংসদ সদস্য। তিনি বলেন, “২০১৭ সাল থেকে আমি এই এলাকায় কাজ করছি। দল আমাকে আশ্বাস দিয়েছিল, কিন্তু শেষ মুহূর্তে জোটের প্রার্থী ঘোষণা করা হয়। আমি প্রতিটি ইউনিয়নের নেতাকর্মীদের সঙ্গে বসেছি, তারা আমাকে নির্বাচন করার জন্য চাপ দিয়েছে। তাই এই লড়াই আমার একার নয়, সরাইল-আশুগঞ্জের মানুষের।” উল্লেখ্য, দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করায় গত ডিসেম্বরে বিএনপি তাকে বহিষ্কার করেছিল।
নির্বাচনী হুমকি-ধমকি প্রসঙ্গে রুমিন ফারহানা তার স্বভাবসুলভ তেজস্বী কণ্ঠে বলেন, “আওয়ামী লীগের শাসনামলে গভীর রাতে থানায় অবস্থান নিয়ে আমার কর্মীকে ছাড়িয়ে এনেছিলাম। এখন তো কোনো দলীয় সরকার নেই। নির্দলীয় সরকারের কাজ নির্বাচন সুষ্ঠু করা। আমার কোনো কর্মীর গায়ে পশম ধরার আগে আমাকে জবাব দিতে হবে। সংসদে আমি কী করতে পারি, তা তো আপনারা আগেই দেখেছেন।”
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, এখানে সব আন্তর্জাতিক সংস্থা ও গণমাধ্যমের কড়া নজর থাকবে। কারণ এই আসনে ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা লড়ছেন। তিনি ১৯৯৪ সালের মাগুরা উপনির্বাচনের উদাহরণ টেনে বর্তমান প্রশাসনকে সতর্ক করেন এবং ভোটারদের নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানান।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে এখন মূল লড়াই জমে উঠেছে চতুর্মুখী। বিএনপির বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার প্রধান প্রতিপক্ষ হিসেবে রয়েছেন বিএনপি জোটের মনোনীত প্রার্থী এবং জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব (খেজুরগাছ প্রতীক)। এছাড়াও আরও বেশ কয়েকজন হেভিওয়েট প্রার্থী এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
সরাইল ও আশুগঞ্জের ভোটারদের মধ্যে রুমিন ফারহানার এই ‘ব্যতিক্রমী চিকিৎসা প্রতিশ্রুতি’ এবং তার সাহসী ভাবমূর্তি কতটা প্রভাব ফেলে, তা দেখার জন্য এখন ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে আছে ব্রাহ্মণবাড়িয়াবাসী।

