ঝিনাইদহ সদর উপজেলার একটি গ্রামে বসতবাড়ি নির্মাণের কাজ চলাকালে মাটির নিচ থেকে দুটি অবিস্ফোরিত হ্যান্ড গ্রেনেড উদ্ধার করা হয়েছে। রোববার সকালে সদর উপজেলার নলডাঙ্গা ইউনিয়নের বড় গড়িয়ালা গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে মাটির নিচে চাপা পড়ে থাকা এই যুদ্ধাস্ত্র দুটি উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রাথমিক ধারণা, গ্রেনেড দুটি মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়কার হতে পারে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বড় গড়িয়ালা গ্রামের বাসিন্দা বাবু মিয়া তার পৈত্রিক ভিটায় নতুন একটি ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী রোববার সকালে কয়েকজন নির্মাণ শ্রমিক ভিত্তিস্থাপন বা পিলার বসানোর জন্য মাটি খোঁড়ার কাজ শুরু করেন। মাটির বেশ গভীরে যাওয়ার পর হঠাৎ শ্রমিকদের কোদালের মাথায় শক্ত ও গোলাকার ধাতব বস্তুর আঘাত লাগে। কৌতূহলবশত তারা সাবধানে মাটি সরিয়ে দুটি মরিচা ধরা গোলাকার বস্তু দেখতে পান। বস্তুদুটির আকৃতি ও বৈশিষ্ট্য দেখে সন্দেহ হওয়ায় শ্রমিকরা তাৎক্ষণিকভাবে কাজ বন্ধ করে দেন এবং স্থানীয় নলডাঙ্গা পুলিশ ক্যাম্পে খবর পাঠান।
পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে বস্তু দুটিকে হ্যান্ড গ্রেনেড হিসেবে শনাক্ত করে এবং নিরাপত্তার স্বার্থে সাধারণ মানুষের চলাচল নিয়ন্ত্রণে আনে। পরবর্তীতে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে সেনাবাহিনী ও পুলিশের সমন্বয়ে গঠিত একটি যৌথ বাহিনীর বিশেষজ্ঞ দল দুপুরের দিকে সেখানে উপস্থিত হয়। অত্যন্ত সতর্কতার সাথে যৌথ বাহিনীর সদস্যরা গ্রেনেড দুটি উদ্ধার করে নিরাপদ হেফাজতে ঝিনাইদহ সদর থানায় নিয়ে যান।
বাড়ির মালিক বাবু মিয়া ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, “সকালে শ্রমিকরা কাজ করার সময় মাটির নিচে অস্বাভাবিক কিছু একটার সন্ধান পায়। পরে পুলিশ এসে নিশ্চিত করে এগুলো জীবন্ত গ্রেনেড। এতদিন আমরা এই গ্রেনেডগুলোর ওপর ঘরবাড়ি বানিয়ে বসবাস করছিলাম ভাবতেই গা শিউরে উঠছে।”
ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সামসুল আরেফিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, উদ্ধারকৃত গ্রেনেড দুটিতে প্রচুর মরিচা ধরা থাকলেও এগুলো এখনো বিপজ্জনক হতে পারে। তিনি বলেন, “প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে আমাদের ধারণা হচ্ছে, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে গ্রেনেড দুটি কোনোভাবে এখানে অবিস্ফোরিত অবস্থায় মাটিচাপা পড়ে গিয়েছিল। বর্তমানে গ্রেনেড দুটি থানা হেফাজতে অত্যন্ত নিরাপদে রাখা হয়েছে।”
পুলিশ আরও জানায়, গ্রেনেডগুলো নিষ্ক্রিয় করার জন্য ইতিমধ্যে সেনাবাহিনীর বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটকে অবহিত করা হয়েছে। বিশেষায়িত এই দলটির সদস্যরা ঝিনাইদহে পৌঁছালে লোকালয় থেকে দূরে কোনো নিরাপদ স্থানে নিয়ে গ্রেনেড দুটি পরিকল্পিতভাবে বিস্ফোরণের মাধ্যমে নিষ্ক্রিয় করা হবে। ওই এলাকায় আরও কোনো যুদ্ধাস্ত্র বা বিস্ফোরক থাকতে পারে কি না, তা খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

