নীলফামারীতে আবাদি জমির উর্বর মাটি কেটে ইটভাটায় ব্যবহার করার দায়ে চারটি ইটভাটা মালিকের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিয়েছে প্রশাসন। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) বিকেলে জেলার সৈয়দপুর উপজেলার কামারপুকুর এলাকায় পরিচালিত এক বিশেষ অভিযানে ভ্রাম্যমাণ আদালত ওই চার প্রতিষ্ঠানকে মোট ১৯ লাখ টাকা জরিমানা করে।
পরিবেশ রক্ষায় সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির অংশ হিসেবে এই অভিযানটি পরিচালিত হয়। এতে নেতৃত্ব দেন পরিবেশ অধিদপ্তর, ঢাকার এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সাজ্জাদ জাহিদ রাতুল এবং নীলফামারী জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন। প্রশাসনের এই ঝটিকা অভিযানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিশাল একটি বহর সহায়তা প্রদান করে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কামারপুকুর এলাকার বেশ কিছু ইটভাটা দীর্ঘদিন ধরে নিয়ম বহির্ভূতভাবে আশপাশের কৃষিজমির উপরিভাগের উর্বর মাটি (টপ সয়েল) কেটে ইটের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করছিল। এতে জমির উর্বরতা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশের ওপর দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব পড়ছিল। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আজ বিকেলে মেসার্স সোনার বাংলা ব্রিকস, মেসার্স বিপিএল-২ ব্রিকস, মেসার্স এ এস বি ব্রিকস এবং ব্রিকস লিংক লিমিটেড নামের চারটি ভাটায় অভিযান চালানো হয়।
অভিযান চলাকালে জমি থেকে মাটি কাটার অকাট্য প্রমাণ পাওয়ায় ‘ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন’ অনুযায়ী মেসার্স সোনার বাংলা ব্রিকস ও বিপিএল-২ সহ চারটি প্রতিষ্ঠানকে বিভিন্ন অংকে মোট ১৯ লাখ টাকা আর্থিক দণ্ড প্রদান করা হয়।
অভিযানটি সফল করতে সৈয়দপুর থানা পুলিশ এবং র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-১৩ এর পাশাপাশি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের একটি দল অভিযানে যুক্ত ছিল। প্রশাসনের এই বিশাল উপস্থিতিতে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়।
নীলফামারী জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “কৃষিজমি আমাদের জাতীয় সম্পদ। এর উর্বর মাটি কেটে ইটভাটায় নেওয়া সম্পূর্ণ দণ্ডনীয় অপরাধ। আমরা কৃষিজমি রক্ষা এবং পরিবেশ দূষণ রোধে নিয়মিত এ ধরনের তদারকি চালিয়ে আসছি। আজকের জরিমানা কেবল একটি সতর্কবার্তা; আইন অমান্য করলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর ব্যবস্থা এমনকি ভাটা বন্ধ করে দেওয়ার মতো সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।”
পরিবেশবাদীরা প্রশাসনের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের মতে, ইটভাটার কারণে আবাদি জমি হ্রাসের যে প্রবণতা নীলফামারীতে শুরু হয়েছে, তা রোধ করতে হলে নিয়মিত এই ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখা জরুরি। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, অবৈধ ইটভাটা ও কৃষিজমির মাটি লুটেরাদের বিরুদ্ধে জেলাজুড়ে তাদের এই অভিযান চলমান থাকবে।

