নাটোরের সিংড়ায় পূর্ব শত্রুতার জেরে আবু রায়হান (৪৫) নামে স্থানীয় এক বিএনপি নেতাকে দিনদুপুরে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) বিকেলে উপজেলার তাজপুর গ্রামীণ সড়কে এই নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটে। আহত রায়হানকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (রামেক) স্থানান্তর করা হয়েছে।
আবু রায়হান সিংড়া উপজেলার ইটালি ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবং হিজলি গ্রামের অফিজ উদ্দিনের ছেলে। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
পুলিশ এবং স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আবু রায়হানের সঙ্গে তার প্রতিবেশী সোহানের চলাচলের একটি রাস্তা নিয়ে দীর্ঘকাল ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এই পথ সংক্রান্ত বিবাদকে কেন্দ্র করে এর আগেও উভয় পক্ষের মধ্যে একাধিকবার বাদানুবাদ ও মারামারির ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে আদালতে পাল্টাপাল্টি মামলাও বিচারাধীন রয়েছে। মূলত এই পুরনো শত্রুতার জের ধরেই আজকের এই বর্বরোচিত হামলা চালানো হয়েছে বলে স্থানীয়দের ধারণা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে আবু রায়হান তাজপুর গ্রামীণ সড়ক দিয়ে ব্যক্তিগত কাজ সেরে ফিরছিলেন। পথে পূর্ব থেকে ওত পেতে থাকা সোহানুর রহমান সোহান, রমজান, আউয়াল, মিঠু, ফরহাদ ও রবিউলসহ একদল যুবক তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে এবং পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। রায়হান মাটিতে লুটিয়ে পড়লে হামলাকারীরা তাকে মৃত ভেবে ঘটনাস্থল ফেলে রেখে দ্রুত পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে সিংড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
সিংড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. শিবলী নোমান জানান, আহতের অবস্থা অত্যন্ত গুরুতর। তার দুই পায়ের গোড়ালি ধারালো অস্ত্রের আঘাতে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও ভেঙে গেছে। তার শরীরে গভীর ক্ষত তৈরি হয়েছে, যার জন্য জরুরি ভিত্তিতে বড় ধরনের অস্ত্রোপচার প্রয়োজন। সিংড়ায় উন্নত চিকিৎসার পর্যাপ্ত সুযোগ না থাকায় প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে দ্রুত রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।
সিংড়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আ স ম আব্দুন নূর ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং আলামত সংগ্রহ করেছে। তিনি বলেন, “প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, রাস্তা সংক্রান্ত পুরনো বিরোধ থেকেই এই হামলার সূত্রপাত। দোষীদের শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।” তবে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এই ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
এই হামলার ঘটনায় ইটালি ইউনিয়ন বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের পক্ষ থেকে তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে এবং অবিলম্বে দোষীদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে।

