সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে যখন ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে, ঠিক তার আগের দিন রংপুরে এক বড় ধরনের জালিয়াতি চক্রের অপতৎপরতা নসাৎ করে দিয়েছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করে পরীক্ষার্থীদের অনৈতিক সুবিধা দেওয়ার অভিযোগে চক্রের দুই সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) দুপুরে নগরীর পুলিশ লাইনসংলগ্ন এলাকা থেকে তাদের হাতে-নাতে ধরা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন—মিঠাপুকুর উপজেলার কাফ্রিখাল এলাকার গোলাম কিবরিয়া (৩০) এবং সুমন চন্দ্র (২৮)। গ্রেফতারের সময় তাদের কাছ থেকে তিনটি স্মার্টফোন এবং পরীক্ষায় ব্যবহারের উপযোগী অত্যাধুনিক গোপন ডিজিটাল ডিভাইস উদ্ধার করা হয়েছে। গোয়েন্দা পুলিশের দাবি, এই চক্রটি আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে পরীক্ষার হলে উত্তর সরবরাহের নীল নকশা তৈরি করেছিল।
রংপুর মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বিকেলে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশের একটি চৌকস দল ক্যাপ্টেন ব্যাকোলজি মোড়ে অভিযান চালায়। সেখানে সন্দেহভাজন অবস্থায় ঘোরাফেরা করার সময় কিবরিয়া ও সুমনকে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকার করেছেন যে, আগামীকালকের নিয়োগ পরীক্ষায় বিশেষ ব্লুটুথ ডিভাইস ও ইয়ারপিসের মাধ্যমে প্রার্থীদের উত্তর বলে দেওয়ার চুক্তিতে তারা সেখানে অবস্থান করছিলেন।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ধারণা করছেন, এই চক্রের পেছনে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট কাজ করছে। গ্রেফতারকৃতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই চক্রের মূল হোতাদের ধরতে ইতিমধ্যে রংপুর ও পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতে চিরুনি অভিযান শুরু করেছে পুলিশ। চক্রটি কতজন পরীক্ষার্থীর সঙ্গে আর্থিক লেনদেন করেছে এবং এর সঙ্গে আর কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
আগামীকাল শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) দেশের ৬১টি জেলায় একযোগে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এবারের পরীক্ষায় বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে কর্তৃপক্ষ। শোক দিবস পালনের কারণে পূর্বনির্ধারিত সকালের পরিবর্তে পরীক্ষাটি অনুষ্ঠিত হবে বিকেল ৩টা থেকে ৪টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত।
নিয়োগ পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো ধরনের গুজবে কান না দেওয়ার জন্য পরীক্ষার্থীদের প্রতি বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে:
পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার কোনো সুযোগ নেই, কারণ পুরো প্রক্রিয়াটি স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত। পরীক্ষার হলে কোনো ধরনের মোবাইল, ক্যালকুলেটর বা ঘড়ি ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ডিজিটাল ডিভাইস শনাক্ত করতে এবার পরীক্ষার্থীদের উভয় কান উন্মুক্ত রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে যে, যারা এই ধরনের জালিয়াতি চক্রের সঙ্গে কোনো প্রকার লেনদেন বা যোগাযোগ করবেন, তাদের কেবল বহিষ্কারই নয় বরং আজীবনের জন্য পরীক্ষায় নিষিদ্ধসহ কঠোর আইনি ব্যবস্থার মুখোমুখি হতে হবে। আজকের এই সফল অভিযানের পর রংপুরের সাধারণ পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও প্রশাসনকে আরও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা।

