আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর) আসনের আলোচিত প্রার্থী ও জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. মো. রেজাউল করিমের সম্পদের বিবরণী প্রকাশ্যে এসেছে। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে জমা দেওয়া নির্বাচনী হলফনামা অনুযায়ী, তিনি পেশায় একজন সাংবাদিক ও লেখক। তার বার্ষিক আয় ৭ লাখ টাকা এবং মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১১ লাখ ৬৩ হাজার টাকা।
রেজাউল করিম লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার উত্তর জয়পুর ইউনিয়নের প্রাণভগবতীপুর গ্রামের হোছাইন আহমদের ছেলে। হলফনামায় তার শিক্ষাগত যোগ্যতা, পেশা এবং আইনি জটিলতার বিস্তারিত তথ্য উঠে এসেছে।
হলফনামায় রেজাউল করিম নিজেকে সাংবাদিক ও লেখক হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। তিনি বর্তমানে সাপ্তাহিক সোনার বাংলা পত্রিকার সহকারী সম্পাদক হিসেবে কর্মরত। তার বার্ষিক আয় ৭ লাখ টাকা এবং সর্বশেষ অর্থবছরে তিনি ২০ হাজার টাকা আয়কর প্রদান করেছেন।
রেজাউল করিমের অস্থাবর সম্পদের মোট অর্জনকালীন মূল্য দেখানো হয়েছে ১১ লাখ ৬৩ হাজার ৩৯ টাকা। এর মধ্যে রয়েছে: নগদ টাকা: ৩ লাখ ২৯ হাজার ২৯৮ টাকা। ব্যাংক জমা: ১ লাখ ১৮ হাজার ৭৪১ টাকা। শেয়ার ও বন্ড: বিভিন্ন কোম্পানিতে ৬ লাখ ২৫ হাজার টাকার শেয়ার রয়েছে। অলঙ্কার: স্বর্ণসহ বিভিন্ন মূল্যবান ধাতুর ২৫ ভরি গহনা রয়েছে তার। অন্যান্য: ৫০ হাজার টাকার ইলেকট্রনিক পণ্য এবং ৬০ হাজার টাকার আসবাবপত্র।
রেজাউল করিমের হলফনামায় একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে তার বিরুদ্ধে হওয়া মামলার বিবরণ। হলফনামা অনুযায়ী, বর্তমানে তার বিরুদ্ধে ৮টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। তবে চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, বিগত বছরগুলোতে তার বিরুদ্ধে হওয়া ৭২টি মামলা থেকে তিনি ইতিমধ্যে খালাস বা অব্যাহতি পেয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিরোধী দলে থাকাকালীন বিভিন্ন সময়ে হওয়া এসব মামলার অধিকাংশ থেকেই তিনি আইনি প্রক্রিয়ায় মুক্তি পেয়েছেন।
লক্ষ্মীপুর-৩ আসনে জামায়াতের এই শীর্ষ নেতার অংশগ্রহণ স্থানীয় নির্বাচনে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বিশেষ করে শিক্ষিত ও পেশাজীবী ভোটারদের মাঝে তার ‘সাংবাদিক ও লেখক’ পরিচয়টি ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন তার সমর্থকরা। তবে বড় দুই দলের হেভিওয়েট প্রার্থীদের সঙ্গে তার লড়াই কতটা প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক হয়, তা দেখার অপেক্ষায় জেলাবাসী।

