দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবন শেষে স্বদেশে প্রত্যাবর্তনের পর প্রথমবারের মতো ঢাকার বাইরে রাজনৈতিক সফরে বের হচ্ছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আগামী রোববার (১১ জানুয়ারি) তার এই ঐতিহাসিক সফর শুরু হতে যাচ্ছে। সফরের যাত্রাপথ হিসেবে তিনি প্রথমেই বেছে নিয়েছেন টাঙ্গাইল জেলাকে, যেখানে তিনি মজলুম জননেতা মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর মাজার জিয়ারত ও বিশেষ দোয়া মাহফিলে অংশ নেবেন। বুধবার (৭ জানুয়ারি) বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই কর্মসূচির তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
দলীয় সূত্র মারফত জানা গেছে, আগামী রোববার সকাল ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে রাজধানী ঢাকার বাসভবন থেকে সড়কপথে উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার বগুড়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করবেন তারেক রহমান। যাত্রাপথে দুপুর ১টা নাগাদ তিনি টাঙ্গাইলে পৌঁছাবেন। সেখানে মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন ও জিয়ারত শেষে আয়োজিত এক দোয়া মাহফিলে তিনি শরিক হবেন। এরপর তিনি তার মূল গন্তব্য বগুড়ার দিকে রওনা হবেন।
তারেক রহমানের এই সফরকে কেন্দ্র করে টাঙ্গাইল জেলা বিএনপি এবং এর সহযোগী অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মাঝে এক অভূতপূর্ব উৎসাহ ও উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। গত ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরার পর ঢাকার বাইরে এটিই তার প্রথম কর্মসূচি হওয়ায় তাকে রাজকীয় সংবর্ধনা দেওয়ার প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। টাঙ্গাইলের প্রবেশপথ মির্জাপুর থেকে শুরু করে মওলানা ভাসানীর মাজার পর্যন্ত ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে সাধারণ মানুষ ও নেতাকর্মীরা তাকে অভিবাদন জানানোর জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন।
বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক এবং টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এই সফরের বিষয়ে সাংবাদিকদের জানান, “দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশনায়ক তারেক রহমানের স্বদেশে ফেরার পর প্রথম জেলা সফর হিসেবে টাঙ্গাইলে আসা আমাদের জন্য অত্যন্ত গর্বের ও আনন্দের বিষয়। টাঙ্গাইলবাসী তাকে স্বাগত জানাতে উন্মুখ হয়ে আছে। আমরা সর্বোচ্চ সম্মানের সঙ্গে তাকে বরণ করে নেব এবং এই দোয়া মাহফিল সফল করতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।”
সফরসূচি অনুযায়ী, মাজার জিয়ারতের সময় তারেক রহমানের সঙ্গে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ছাড়াও স্থানীয় পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত থাকবেন। তার আগমনকে কেন্দ্র করে টাঙ্গাইল শহর ও মহাসড়ক এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও দলীয় স্বেচ্ছাসেবক দল সমন্বয় করে একটি নিশ্চিদ্র নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলার কাজ শুরু করেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমানের এই সফর কেবল একটি ধর্মীয় বা শ্রদ্ধা নিবেদনের কর্মসূচি নয়, বরং নির্বাচনের প্রাক্কালে মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের চাঙ্গা করার একটি কৌশলগত পদক্ষেপ। টাঙ্গাইলের পর তিনি বগুড়া হয়ে আরও ১০টি জেলায় চার দিনের সাংগঠনিক সফরে যাবেন বলে জানা গেছে। দেশজুড়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের মাঝে যে প্রাণের সঞ্চার হয়েছে, তারেক রহমানের এই জেলা সফরের মাধ্যমে তা আরও বেগবান হবে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

