ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দামামা বাজার সাথে সাথে ফেনীর তিনটি সংসদীয় আসনে প্রার্থী যাচাই-বাছাইয়ের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, জেলার তিনটি আসনে জমা পড়া মোট ৩৫টি মনোনয়নপত্রের মধ্যে ২২টি বৈধ বলে ঘোষিত হয়েছে। বিভিন্ন ত্রুটি ও আইনি জটিলতার কারণে ১২ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে এবং সদ্য প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মনোনয়নপত্রটি বর্তমানে স্থগিত রাখা হয়েছে।
আজ রোববার সকাল ৯টা থেকে শুরু হয়ে দুপুর সাড়ে ৩টা পর্যন্ত জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে চলে এই যাচাই-বাছাই কার্যক্রম। ফেনীর রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মনিরা হক বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরে জানান, আয়কর রিটার্ন দাখিল না করা, হলফনামায় স্বাক্ষর না থাকা এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ক্ষেত্রে এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর সংক্রান্ত জটিলতার কারণেই মূলত অধিকাংশ মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে।
আসনভিত্তিক মনোনয়নপত্রের চিত্র: ফেনী-১ (পরশুরাম, ফুলগাজী ও ছাগলনাইয়া): এই আসনে ১০ জন প্রার্থীর মধ্যে ৬ জনের আবেদন বৈধ হয়েছে। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মনোনয়নটি স্থগিত রাখা হয়েছে। অন্যদিকে, আয়কর ও ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ না করায় এবং ভোটারের স্বাক্ষর জটিলতায় ৩ জনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। এই আসনে বৈধ প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক রফিকুল আলম মজনু, জামায়াতে ইসলামীর এস এম কামাল উদ্দিন এবং জাতীয় পার্টির মোতাহের হোসেন চৌধুরীসহ আরও তিনজন।
ফেনী-২ (সদর): এই আসনে জমা পড়া ১৪টি মনোনয়নপত্রের মধ্যে ৫টি বাতিল ও ৯টি বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। বৈধ প্রার্থীদের তালিকায় রয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অধ্যাপক জয়নাল আবেদিন, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান এবং গণঅধিকার পরিষদের মো. তারেকুল ইসলাম ভূঞাসহ অন্যান্যরা। হলফনামায় স্বাক্ষর ও আয়কর সংক্রান্ত ত্রুটির কারণে ৫ জন প্রার্থীর স্বপ্ন আপাতত থমকে গেছে।
ফেনী-৩ (দাগনভূঞা ও সোনাগাজী): এই আসনে ১১ জন প্রার্থীর মধ্যে ৪ জনের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। হেভিওয়েট প্রার্থীদের মধ্যে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আওয়াল মিন্টু, জাতীয় পার্টির মো. আবু সুফিয়ান এবং জামায়াতে ইসলামীর মোহাম্মদ ফখরুদ্দিনের মনোনয়ন বৈধ বলে বিবেচিত হয়েছে। সরকারি পাওনা পরিশোধ না করা এবং এক শতাংশ ভোটারের তথ্যে গরমিল থাকায় ৪ জন প্রার্থীর আবেদন অগ্রাহ্য করা হয়েছে।
রিটার্নিং কর্মকর্তা মনিরা হক জানিয়েছেন, যাদের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে তারা আইন অনুযায়ী আগামী ৫ থেকে ১১ জানুয়ারির মধ্যে নির্বাচন কমিশনে আপিল করার সুযোগ পাবেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ক্ষেত্রে জমা দেওয়া এক শতাংশ ভোটারের তালিকায় মৃত ভোটারের নাম থাকা কিংবা সঠিক তথ্য না পাওয়ার বিষয়টি এবার অনেক প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিলের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ফেনীর এই যাচাই-বাছাইয়ের ফলাফল জেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে বেগম খালেদা জিয়ার মনোনয়ন স্থগিত হওয়ার বিষয়টি নেতাকর্মীদের মাঝে বাড়তি কৌতূহল সৃষ্টি করেছে। আপিল প্রক্রিয়ার পর চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে বলে প্রশাসন থেকে জানানো হয়েছে।

