ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দামামা বেজে উঠলেও কক্সবাজার-২ (মহেশখালী ও কুতুবদিয়া) আসনের রাজনৈতিক সমীকরণে বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। আজ শুক্রবার বিকেলে কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক আব্দুল মান্নান এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদের দাখিলকৃত নথিপত্রে আইনি প্রক্রিয়া ও মামলা সংক্রান্ত কিছু জটিলতা পরিলক্ষিত হওয়ায় তাঁর প্রার্থিতা নিয়ে দীর্ঘ সময় পর্যালোচনা করা হয়। শুরুতে তাঁর মনোনয়নপত্রটি স্থগিত রাখা হলেও বিস্তারিত যাচাই-বাছাই শেষে সেটিকে বাতিল হিসেবে ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। উল্লেখ্য, হামিদুর রহমান আযাদ ২০০৮ সালের নির্বাচনে এই আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন এবং এবারও তিনি জামায়াতের অন্যতম শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে মাঠে ছিলেন।
কক্সবাজার-২ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য মোট সাতজন প্রার্থী তাঁদের মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। এর মধ্যে হামিদুর রহমান আযাদের পাশাপাশি গোলাম মাওলা নামে আরও এক স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। ফলে বর্তমানে এই আসনে বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে পাঁচে। রিটার্নিং কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান জানিয়েছেন, যাদের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে, তাঁরা সংক্ষুব্ধ হয়ে আগামী ৫ জানুয়ারি থেকে ১১ জানুয়ারির মধ্যে নির্বাচন কমিশনে আপিল করার সুযোগ পাবেন। আপিল বিভাগের চূড়ান্ত রায়ের ওপরই নির্ভর করবে এই প্রার্থীদের ভোটের মাঠে ফেরার সম্ভাবনা।
যাচাই-বাছাইয়ের পর কক্সবাজার-২ আসনে বৈধ ঘোষিত প্রার্থীরা হলেন: আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ (বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল – বিএনপি), জিয়াউল হক (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ), ওবাইদুল কাদের নদভী (বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস), এস এম বোকনুজ্জামান খান (গণঅধিকার পরিষদ), মোহাম্মদ মাহমুদুল করিম (জাতীয় পার্টি)।
দ্বীপ উপজেলা মহেশখালী ও কুতুবদিয়া নিয়ে গঠিত এই আসনটি বরাবরই রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর। সাবেক সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান আযাদের মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ায় স্থানীয় জামায়াত নেতা-কর্মীদের মধ্যে এক ধরণের হতাশা ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তবে দলটির স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, তাঁরা আইনি লড়াই চালিয়ে যাবেন এবং আপিল বিভাগের মাধ্যমে প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী।
অন্যদিকে, বড় রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিএনপির প্রার্থী আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদের মনোনয়নপত্র বৈধ হওয়ায় দলের নেতা-কর্মীরা উজ্জীবিত। এখন দেখার বিষয়, আপিল প্রক্রিয়ায় হামিদুর রহমান আযাদ তাঁর প্রার্থিতা ফিরে পেয়ে নির্বাচনী লড়াইকে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক করতে পারেন কি না। নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত সময়সূচী অনুযায়ী আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি এই আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

