রাজনৈতিক মেরুকরণের এই সময়ে গণঅধিকার পরিষদ ত্যাগ করে বিএনপিতে যোগদান করেই আলোচনায় এসেছিলেন তরুণ তুর্কি রাশেদ খাঁন। এবার আলোচনায় উঠে এসেছে তার ব্যক্তিগত সম্পদের হিসাব। ঝিনাইদহ-৪ (কালীগঞ্জ ও সদরের আংশিক) আসন থেকে ধানের শীষের চূড়ান্ত মনোনয়ন পাওয়ার পর নির্বাচন কমিশনে দাখিলকৃত হলফনামায় নিজের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের যে চিত্র তিনি তুলে ধরেছেন, তা এক কথায় চমকপ্রদ। আধুনিক রাজনীতির অনেক নেতার অঢেল সম্পদের ভিড়ে রাশেদ খাঁন জানিয়েছেন, তার নিজের কোনো ব্যক্তিগত গাড়ি, বাড়ি, প্লট কিংবা এক শতাংশ আবাদি জমিও নেই।
নির্বাচনী হলফনামায় রাশেদ খাঁন নিজেকে একজন রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। তার আয়ের প্রধান উৎস ব্যবসা। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের রিটার্ন অনুযায়ী, হলফনামা জমা দেওয়ার দিন পর্যন্ত তিনি ব্যবসা থেকে সাড়ে ৪ লাখ টাকা আয় করেছেন এবং সরকারি কোষাগারে ৫ হাজার টাকা আয়কর জমা দিয়েছেন। বিপরীতে তার স্ত্রী রাবেয়া আক্তার আলোকে উল্লেখ করেছেন গৃহিণী হিসেবে। হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, রাশেদ খাঁনের নামে কোনো বন্ড, সঞ্চয়পত্র কিংবা উল্লেখযোগ্য ব্যাংক আমানত নেই। এমনকি দেশের বাইরেও তার কোনো স্থাবর বা অস্থাবর সম্পদের অস্তিত্ব নেই বলে তিনি লিখিতভাবে জানিয়েছেন।
রাশেদ খাঁনের দাখিলকৃত নথিপত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, তার সম্পদের বড় একটি অংশ জুড়ে রয়েছে নগদ অর্থ এবং স্বর্ণালঙ্কার। হলফনামার তথ্যমতে, বর্তমানে তার হাতে নগদ ৩৫ লাখ ৪৫ হাজার ৮৭৫ টাকা রয়েছে। অন্যদিকে তার স্ত্রীর হাতে রয়েছে নগদ ৩০ হাজার টাকা। দুটি বেসরকারি ব্যাংকের ঝিনাইদহ ও ঢাকা সেনানিবাস শাখায় তার অ্যাকাউন্টে জমা আছে মাত্র ৭ হাজার ৫৮২ টাকা।
তবে স্থাবর সম্পদ না থাকলেও স্বর্ণের ক্ষেত্রে রাশেদ খাঁনের ভাণ্ডার বেশ সমৃদ্ধ। হলফনামায় তিনি উল্লেখ করেছেন, তার নিজের রয়েছে ৩০ ভরি স্বর্ণ এবং তার স্ত্রীর রয়েছে ১০ ভরি। এই স্বর্ণের উৎস হিসেবে তিনি জানিয়েছেন যে, এগুলো বিয়ের সময় এবং বিভিন্ন সময়ে উপহার হিসেবে প্রাপ্ত। রাশেদ খাঁনের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, তার অর্জিত স্বর্ণ ও নগদ অর্থের অর্জনকালীন মূল্য ছিল ৩৬ লাখ ৫৩ হাজার ৪৯৭ টাকা, যার বর্তমান বাজারমূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ৮১ লাখ ৪৮ হাজার ৪১২ টাকায়। একইভাবে তার স্ত্রীর নামে থাকা স্বর্ণ ও আসবাবপত্রের বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ১৭ লাখ ৭০ হাজার টাকা বলে তিনি হলফনামায় উল্লেখ করেছেন।
মামলা সংক্রান্ত তথ্যে রাশেদ খাঁন জানিয়েছেন, ২০১৮ সালে কোটা সংস্কার আন্দোলন ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তার বিরুদ্ধে দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছিল। তবে ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লব পরবর্তী সময়ে তিনি সেই মামলাগুলো থেকে খালাস পেয়েছেন। বর্তমানে রাজনৈতিক কারণে তার নামে আরও তিনটি পৃথক মামলা চলমান রয়েছে।
জাতীয় পর্যায়ের একজন আলোচিত তরুণ নেতার হলফনামায় গাড়ি-বাড়িহীন এমন অনাড়ম্বর জীবনযাপনের তথ্য স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। অনেকে একে ইতিবাচক ও স্বচ্ছ রাজনীতির প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন, আবার অনেকের কাছে এটি কৌতূহলের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঝিনাইদহ-৪ আসনের নির্বাচনি লড়াইয়ে নামার আগে তার এই ‘সাধারণ’ জীবনযাত্রার খতিয়ান ভোটের মাঠে বিশেষ প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

