যমুনা পাড়ের জেলা সিরাজগঞ্জে দীর্ঘ পাঁচ দিন পর অবশেষে কুয়াশার চাদর ভেদ করে দেখা মিলল সূর্যের। গত কয়েকদিন ধরে তীব্র শীত, হিমেল হাওয়া আর ঘন কুয়াশায় জনজীবন যখন স্থবির হয়ে পড়েছিল, তখন বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) ভোরের সোনাঝরা রোদ সাধারণ মানুষের মনে স্বস্তি ও আনন্দের বার্তা নিয়ে এসেছে। সূর্যের দেখা পেয়ে বিপর্যস্ত জনজীবনে ফিরে এসেছে চঞ্চলতা; পাড়ায় পাড়ায় বৃদ্ধদের আড্ডা আর গৃহিণীদের ব্যস্ততা জানান দিচ্ছে হাড়কাঁপানো শীতের মাঝে এই উষ্ণতার কদর কতখানি।
সিরাজগঞ্জের তাড়াশ আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকাল ৯টায় জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যদিও তাপমাত্রার পারদ খুব একটা উপরে ওঠেনি, তবে টানা কয়েক দিনের সূর্যহীন দিনগুলোর তুলনায় আজকের রৌদ্রোজ্জ্বল সকালটি স্থানীয়দের কাছে উৎসবের মতো মনে হচ্ছে। ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জাহিদুল ইসলাম জানান, গত পাঁচ দিন সূর্যের দেখা না মেলায় এবং উত্তরের হিমেল হাওয়ার কারণে জেলায় শীতের প্রকোপ মারাত্মক আকার ধারণ করেছিল। আজ সকাল থেকেই আকাশ পরিষ্কার থাকায় রোদ ওঠায় অবস্থার উন্নতি হয়েছে।
সরেজমিনে সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, রোদ ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই বাড়ির উঠান, বারান্দা ও ছাদগুলোতে ভিড় বেড়েছে। গৃহিণীরা গত কয়েক দিনের জমে থাকা কাপড় ধুয়ে রোদে শুকাতে দিয়েছেন। তাড়াশের স্থানীয় বাসিন্দা সুখী খাতুন হাসিমুখে জানান, “কয়দিন ধরে সূর্যের মুখ দেখা যায় নাই, কাপড়চোপড় সব ভিজে ছিল। আজ সকালে রোদ দেখে খুব ভালো লাগছে, সব ধুয়ে শুকাতে দিয়েছি।” অন্যদিকে গ্রামের মোড়ে মোড়ে বৃদ্ধ ও শিশুদের রোদে বসে শরীর গরম করতে দেখা গেছে। দীর্ঘ বিরতির পর প্রিয় রোদের স্পর্শে তাদের চোখেমুখে তৃপ্তির ছাপ স্পষ্ট।
চলতি মৌসুমে সিরাজগঞ্জের আবহাওয়ায় বড় ধরনের তারতম্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে। গত ২৪ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া শীতের তীব্রতা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেয়ে ২৬ ডিসেম্বর ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসে। এর মধ্যে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর সিরাজগঞ্জসহ দেশের সাতটি জেলায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহের কথা জানিয়েছিল। ২৮ ডিসেম্বর থেকে ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত ঘন কুয়াশা ও কনকনে ঠান্ডার কারণে সাধারণ মানুষের ঘর থেকে বের হওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। বিশেষ করে যমুনা চরাঞ্চলের খেটে খাওয়া মানুষ ও কৃষকরা চরম দুর্ভোগে পড়েছিলেন।
আবহাওয়াবিদদের মতে, বর্তমানে সিরাজগঞ্জসহ উত্তরবঙ্গের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া শৈত্যপ্রবাহের তীব্রতা কিছুটা কমলেও কুয়াশার প্রকোপ একদম শেষ হয়ে যায়নি। তবে আজকের এই রোদ যমুনা পাড়ের মানুষের মনে আশার সঞ্চার করেছে। শীতের এই কঠিন সময়ে স্থানীয় প্রশাসন ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে চরাঞ্চলের দুস্থ মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণের তাগিদ দিয়েছেন সচেতন মহল। বছরের শেষ দিনে সূর্যের এই উঁকি দেওয়াকে সিরাজগঞ্জবাসী নতুন বছরের জন্য এক ইতিবাচক সংকেত হিসেবেই দেখছেন।

