বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় মৎস্য সম্পদের সুরক্ষা এবং বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন বাস্তবায়নে পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় এক বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এই অভিযানে একটি মৎস্য ট্রলার থেকে ৪৯১টি সংরক্ষিত হাঙ্গর জব্দ করা হয়। পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ এই জলজ প্রাণীগুলো অবৈধভাবে শিকারের দায়ে সংশ্লিষ্ট জেলেদের আর্থিক জরিমানার পাশাপাশি জব্দকৃত হাঙ্গরগুলো ধ্বংস করা হয়েছে।
কোস্টগার্ড সূত্র জানায়, পিরোজপুরের পারেরহাট বন্দর সংলগ্ন এলাকায় কিছু অসাধু মৎস্যজীবী সমুদ্র থেকে নিষিদ্ধ হাঙ্গর সংগ্রহ করে পাচারের উদ্দেশ্যে অবস্থান করছে—এমন তথ্যের ভিত্তিতে বাহিনীর একটি চৌকস দল সেখানে অভিযান চালায়। তল্লাশিকালে একটি ট্রলার থেকে বিপুল পরিমাণ হাঙ্গর উদ্ধার করা হয়। এসময় ট্রলারে থাকা ৯ জন জেলেকে আটক করে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তারা স্বীকার করেন যে, হাঙ্গরগুলো বঙ্গোপসাগরের গভীর অঞ্চল থেকে শিকার করে স্থলভাগে নিয়ে আসা হয়েছিল।
অভিযান পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য কোস্টগার্ড সদস্যরা ট্রলারসহ আটককৃতদের ভাণ্ডারিয়ায় নিয়ে আসেন। মঙ্গলবার দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে ভাণ্ডারিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সেখানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। আদালত দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন ২০১২-এর ৩৪(খ) ধারা অনুযায়ী ৯ জন জেলের অপরাধ আমলে নেন। প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্যের ওপর এমন নেতিবাচক প্রভাব সৃষ্টির দায়ে তাদের মোট ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানার অর্থ পরিশোধের পর ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজ থেকে বিরত থাকার শর্তে তাদের মুক্তি দেওয়া হয়।
উপকূলীয় বাস্তুসংস্থান রক্ষায় এই অভিযানের গুরুত্ব উল্লেখ করে উপজেলা বন কর্মকর্তা মো. শফিউর রহমান জানান, হাঙ্গর সামুদ্রিক খাদ্যশৃঙ্খলের একটি অপরিহার্য অংশ এবং এর অনেক প্রজাতি বর্তমানে বিলুপ্তির পথে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় বন বিভাগ এই অভিযানে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের পর্যবেক্ষণ শেষে জব্দকৃত ৪৯১টি হাঙ্গর যথাযথ কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে আগুনে পুড়িয়ে এবং পরবর্তী সময়ে মাটিচাপা দিয়ে বিনষ্ট করা হয়, যাতে এগুলোর কোনো অংশ বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহৃত হতে না পারে।
বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সামুদ্রিক সম্পদ রক্ষা এবং বন্যপ্রাণী পাচার রোধে তাদের এই কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে। বিশেষ করে বঙ্গোপসাগরের জীববৈচিত্র্য ধ্বংসকারী যেকোনো কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে বাহিনীর গোয়েন্দা নজরদারি এবং টহল কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে। পরিবেশবিদদের মতে, এ ধরনের প্রশাসনিক তৎপরতা উপকূলীয় অঞ্চলে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি নিষিদ্ধ মৎস্য শিকার বন্ধে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।

