মাদারীপুর সদর উপজেলার মোস্তফাপুর এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব শত্রুতাকে কেন্দ্র করে দুই ইউপি সদস্যের সমর্থকদের মধ্যে দীর্ঘ চার ঘণ্টাব্যাপী এক ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। আজ মঙ্গলবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দফায় দফায় চলা এই সংঘর্ষে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতেই মুহুর্মুহু ককটেল বিস্ফোরণ ও দোকানপাট ভাঙচুরের ঘটনায় জনমনে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের জেরে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে প্রায় দুই ঘণ্টা যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়, ফলে কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মোস্তফাপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান ইউপি সদস্য হাবিব হাওলাদার এবং সাবেক ইউপি সদস্য খোরশেদ সরদারের ছেলে সামচু সরদার ওরফে ‘কোপা সামচু’র সমর্থকদের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। সম্প্রতি চার মাস কারাভোগের পর জামিনে মুক্তি পেয়ে সামচু সরদার এলাকায় আধিপত্য পুনর্প্রতিষ্ঠার চেষ্টা শুরু করেন।
মঙ্গলবার দুপুরে হঠাৎ করেই সামচু গ্রুপের লোকজন মোস্তফাপুর গ্রামের ফজলে আলী হাওলাদারের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। এই খবর ছড়িয়ে পড়লে উভয় পক্ষের কয়েক শ মানুষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মহাসড়কের ওপর সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, সংঘর্ষ চলাকালীন অন্তত অর্ধশত ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এতে মোস্তফাপুর বাসস্ট্যান্ড ও এর আশপাশের বাজারে থাকা পথচারী ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে হুড়োহুড়ি লেগে যায়। উন্মত্ত হামলাকারীরা বেশ কয়েকটি দোকান ও ঘরবাড়ি ভাঙচুর করে মালামাল লুটপাট করে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
খবর পেয়ে পুলিশ, সেনাবাহিনী এবং র্যাব-৮ এর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। তবে সংঘর্ষকারীরা এতটাই বেপরোয়া ছিল যে, তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর চড়াও হওয়ার চেষ্টা করে এবং পুলিশকে লক্ষ্য করে ককটেল নিক্ষেপ করে। পরে প্রশাসনের কঠোর অবস্থানে সন্ধ্যা ৬টার দিকে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
এই সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে হানিফ সরদার নামক একজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া জুবায়ের হাওলাদারসহ অন্যান্যদের মাদারীপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। হাসপাতালের পুলিশ বক্সে দায়িত্বরত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আহতদের শরীরে ককটেল ও দেশীয় অস্ত্রের জখম রয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) ফারিহা রফিক ভাবনা জানান, সংঘর্ষ থামাতে পুলিশ বারবার মাইকিং করলেও স্থানীয়রা শুরুতে তা অগ্রাহ্য করে। পরবর্তীতে জেলা পুলিশ, গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) এবং সেনাবাহিনীর সম্মিলিত প্রচেষ্টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এলাকায় শান্তি বিঘ্নিতকারী কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না এবং এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে, তবে জনমনে এখনো থমথমে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

