আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর-কাঁঠালিয়া) আসনে নিজেদের অবস্থান সুসংহত করতে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. ফয়জুল হককে চূড়ান্ত মনোনয়ন প্রদান করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার স্বাক্ষরিত এক পত্রে এই মনোনয়নের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। এর আগে গত ২৬ নভেম্বর দলীয় বাছাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাঁকে প্রাথমিক মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল, যা আজ চূড়ান্ত রূপ লাভ করল।
মনোনয়ন পাওয়ার পর এক প্রতিক্রিয়ায় ড. ফয়জুল হক বলেন, “ঐতিহাসিক ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে নির্বাচনের সুযোগ পাওয়া আমার জন্য অত্যন্ত আনন্দ ও গৌরবের। আমি বিশ্বাস করি, দেশপ্রেমিক জনতার সমর্থনে আগামীতে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে একটি ইনসাফ কায়েমের সরকার গঠিত হবে। সেই অভিযাত্রায় রাজাপুর ও কাঁঠালিয়ার মানুষের প্রতিনিধি হিসেবে শামিল হতে পারা আমার জন্য এক বড় প্রাপ্তি।”
নির্বাচনী পরিকল্পনা ও অঙ্গীকার ব্যক্ত করতে গিয়ে ড. ফয়জুল হক এক আধুনিক ও উন্নত ঝালকাঠি গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, তাঁর প্রধান লক্ষ্য হবে ঝালকাঠি-১ আসনকে উন্নয়ন, সুশাসন এবং সত্য ও ন্যায়ের রাজনীতির একটি আদর্শ মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা। তাঁর নির্বাচনী ইশতেহারে গুরুত্ব পাচ্ছে দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজিমুক্ত স্থানীয় প্রশাসন গড়া, বেকার যুবকদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং রাজাপুর-কাঁঠালিয়া অঞ্চলের দীর্ঘদিনের অভিশাপ নদীভাঙন রোধে স্থায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ। এ ছাড়াও যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, বিনামূল্যে জরুরি অ্যাম্বুলেন্স সেবা চালু এবং কৃষকদের পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরাসরি বাজার সংযোগ স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
ড. ফয়জুল হক নিজেকে কেবল একটি দলের প্রতিনিধি হিসেবে নয়, বরং সব ধর্ম ও শ্রেণি-পেশার মানুষের সেবক হিসেবে উপস্থাপন করছেন। নির্বাচনি প্রচারণার সময় ভিন্নমতাবলম্বী রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গেও তিনি সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ ও কুশল বিনিময় করে এলাকায় এক নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির সূচনা করেছেন। তিনি বলেন, “আমি মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিতে চাই। জয়ী হই বা না হই, এলাকার প্রতিটি মানুষের বিপদ-আপদে পাশে থাকাই আমার রাজনীতির মূল দর্শন।”
জামায়াতের এই প্রার্থী তাঁর মনোনয়ন লাভের পেছনে দলের আমির ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি মনে করেন, জুলাই-আগস্ট বিপ্লব পরবর্তী বাংলাদেশে ডা. শফিকুর রহমানের নির্দেশনা রাজনৈতিক অঙ্গনে এক নতুন আশার আলো সঞ্চার করেছে। একইসঙ্গে তিনি দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেম-ওলামা, পীর-মাশায়েখ এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও সাধারণ ভোটারদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান।
উল্লেখ্য, ড. ফয়জুল হকের রাজনৈতিক জীবন বৈচিত্র্যময়। গত ৪ আগস্ট এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি বিএনপির মালয়েশিয়া শাখার পদ থেকে পদত্যাগ করে স্বতন্ত্রভাবে রাজনীতি করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে জামায়াতে ইসলামীর আদর্শের সঙ্গে একাত্ম হয়ে তিনি দলটিতে যোগ দেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ওলিয়ে কামেল হযরত কায়েদ সাহেব হুজুর (রহ.)-এর নাতি এবং প্রখ্যাত আলেম মাওলানা মুজ্জাম্মিলুল হক রাজাপুরী হুজুরের সন্তান। উচ্চশিক্ষায় অত্যন্ত মেধাবী ড. ফয়জুল হক মালয়েশিয়ার ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি এবং পোস্ট-ডক্টোরাল ফেলোশিপ সম্পন্ন করেছেন।
ঝালকাঠি জেলা জামায়াতের আমির অ্যাডভোকেট হাফিজুর রহমান ড. ফয়জুল হকের প্রার্থিতা নিয়ে অত্যন্ত আশাবাদী। তিনি বলেন, “ড. ফয়জুল হক একজন পরিশীলিত ও জ্ঞাননির্ভর নেতা। এলাকার সর্বস্তরের মানুষের কাছে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা আকাশচুম্বী। আমরা বিশ্বাস করি, তাঁর হাত ধরেই ঝালকাঠি-১ আসনে পরিবর্তনের হাওয়া বইবে এবং ইনসাফ কায়েম হবে।”

