শনিবার দুপুর গড়াতেই রাজশাহীর তালাইমারি মোড় এলাকায় জড়ো হতে থাকেন বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। দুটি পৃথক দলে বিভক্ত হয়ে তারা রাস্তায় অবস্থান নেন এবং ওসমান হাদির নির্মম হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে সোচ্চার হন। কর্মসূচিতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি নবগঠিত রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং জাতীয় যুবশক্তির নেতাকর্মীদেরও সংহতি প্রকাশ করে অংশ নিতে দেখা যায়।
আন্দোলনকারীরা জানান, শরীফ ওসমান হাদিকে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে এবং এই ঘটনার নেপথ্যে থাকা কুশীলবরা ইতোমধ্যেই চিহ্নিত। কিন্তু ঘটনার বেশ কিছুদিন অতিবাহিত হলেও অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার ক্ষেত্রে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা। অবস্থান কর্মসূচি থেকে শিক্ষার্থীরা ‘হাদি হত্যার বিচার চাই’ এবং ‘খুনিদের ফাঁসি চাই’ স্লোগানে পুরো এলাকা প্রকম্পিত করে তোলেন। একই সঙ্গে সমসাময়িক ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আন্দোলনকারীদের কণ্ঠে তীব্র ভারতবিরোধী স্লোগানও শোনা যায়।
অবস্থান কর্মসূচিতে সংহতি জানিয়ে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) শিক্ষার্থী রেদোয়ান সিদ্দিকী বলেন, “শহীদ হাদি হত্যার বিচার নিয়ে কোনো ধরনের টালবাহানা বরদাশত করা হবে না। খুনিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে, অথচ প্রশাসন নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে। যদি দ্রুততম সময়ের মধ্যে দোষীদের গ্রেপ্তার করে বিচারের মুখোমুখি করা না হয়, তবে রাজশাহী থেকে শুরু হওয়া এই আগুন সারাদেশে ছড়িয়ে পড়বে এবং আমরা আরও কঠোর ও লাগাতার কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হব।”
উপস্থিত অন্যান্য বক্তারাও অনতিবিলম্বে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে এই হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান। তারা মনে করেন, হাদি হত্যার বিচার না হওয়া পর্যন্ত দেশের ছাত্রসমাজ ঘরে ফিরবে না। আন্দোলনকারীদের মতে, এটি কেবল একটি সাধারণ হত্যাকাণ্ড নয়, বরং জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও মূল্যবোধের ওপর আঘাত।
শিক্ষার্থীদের এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে নগরজুড়ে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিশেষ করে আন্দোলনকারীদের ভারতবিরোধী স্লোগান ও সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে নগর প্রশাসন সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করেছে। রাজশাহী নগরীর পদ্মা আবাসিক এলাকায় অবস্থিত ভারতের সহকারী হাইকমিশনারের কার্যালয় এবং বাসভবন এলাকায় দুপুর থেকেই অতিরিক্ত পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়। কার্যালয়ের চারপাশের রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে যান চলাচল সীমিত করা হয়েছে এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা তালাইমারি মোড়ে তাদের অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছিলেন। সাধারণ পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দারাও শিক্ষার্থীদের এই দাবির প্রতি একাত্মতা পোষণ করেছেন। রাজশাহীর রাজপথের এই বিক্ষোভ প্রমাণ করে যে, ওসমান হাদি হত্যার বিচার এখন আর কেবল পরিবারের দাবি নয়, বরং এটি একটি গণদাবিতে পরিণত হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নগরীর শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্কতায় রয়েছে।

