বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও গভীর করার লক্ষ্যে বাংলাদেশে নিযুক্ত উজবেকিস্তানের অনাবাসিক রাষ্ট্রদূত সারদর রুস্তামবায়েভ বাংলাদেশের বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীনের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হয়েছেন। দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান ঐতিহাসিক সম্পর্ককে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বের মাধ্যমে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার ওপর বৈঠকে গুরুত্বারোপ করা হয়।
বুধবার (২৬ নভেম্বর) বিকেলে সচিবালয়ে বাণিজ্য উপদেষ্টার অফিস কক্ষে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনায় উভয়পক্ষই দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করে। বিশেষ করে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হয়। এই খাতগুলো হলো: ১. বস্ত্রশিল্প (টেক্সটাইল) ২. চামড়াজাত শিল্প (লেদার) ৩. কৃষি ও কৃষি প্রক্রিয়াকরণ (এগ্রো-প্রসেসিং) ৪. ফার্মাসিউটিক্যালস
এই খাতগুলোতে যৌথ বিনিয়োগের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা এবং বাণিজ্য বাধাগুলো অপসারণের বিষয়েও আলোচনা হয়। বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বৈঠক শেষে বলেন, “বাংলাদেশ ও উজবেকিস্তানের মধ্যে সম্পর্ক বহু পুরোনো এবং ঐতিহাসিক। আমরা বাণিজ্য ও বিনিয়োগের মাধ্যমে এই সম্পর্ককে আরও গভীরে নিয়ে যেতে চাই।” তিনি উজবেকিস্তানকে বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অংশীদার হিসেবে অভিহিত করেন।
অন্যদিকে, উজবেকিস্তানের রাষ্ট্রদূত সারদর রুস্তামবায়েভ বাংলাদেশের সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের সাফল্যের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি মন্তব্য করেন যে, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য বৃদ্ধির ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে, যা এখনও পুরোপুরি কাজে লাগানো যায়নি। তিনি এই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আগ্রহ ব্যক্ত করেন।
উল্লেখ্য, রুশ ফেডারেশন ভেঙে যাওয়ার পর ১৯৯২ সালের ১৫ অক্টোবর বাংলাদেশ ও উজবেকিস্তানের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে কূটনৈতিক সম্পর্ক শুরু হয়।
সাম্প্রতিক বাণিজ্যিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে দুই দেশের মধ্যে মোট বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ৩৭.২৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এই বাণিজ্যের মধ্যে উজবেকিস্তানে বাংলাদেশের রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৩২.৮৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচক একটি দিক। বিপরীতে, উজবেকিস্তান থেকে বাংলাদেশে আমদানি ছিল ৪.৪০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশ ও উজবেকিস্তানের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং উভয় দেশই একে অপরের জন্য সম্ভাবনাময় বাজার হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও বহুমুখী করার লক্ষ্যে বৈঠকে যেসব বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল: বাণিজ্য বাধা দূরীকরণ। পর্যটন শিল্পের বিকাশ ও সহযোগিতা। ঢাকা ও তাসখন্দের মধ্যে সরাসরি বিমান চলাচল প্রতিষ্ঠা। যৌথ বিনিয়োগ বৃদ্ধি। বাণিজ্যিক তথ্য আদান-প্রদান প্রক্রিয়াকে দ্রুত ত্বরান্বিত করা।
বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুর রহমান এবং অতিরিক্ত সচিব (রপ্তানি) মো. আব্দুর রহিম খান উপস্থিত ছিলেন। এই বৈঠক দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

