ছাত্র-জনতার বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে নরসিংদীর মাধবদীতে সংঘটিত হত্যা মামলার আসামি ও জেলা কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. নজরুল ইসলাম রিপনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় নরসিংদী শহরের সদর উপজেলা মোড় সংলগ্ন নিজস্ব আইন পেশার চেম্বার থেকে তাকে আটক করা হয়। নজরুল ইসলাম রিপন নরসিংদী জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক দুইবারের সাধারণ সম্পাদক এবং সাবেক সরকারি আইনজীবী (জিপি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আজ সন্ধ্যায় অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম রিপন তার ব্যক্তিগত চেম্বারে অবস্থান করছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশের একটি চৌকস দল সেখানে অভিযান চালায় এবং পুরো এলাকা ঘেরাও করে তাকে হেফাজতে নেয়। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের সময় মাধবদী থানায় দায়ের হওয়া একটি হত্যা মামলায় তাকে অন্যতম অভিযুক্ত হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। গত ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনের এই শীর্ষ নেতা আত্মগোপনে থাকলেও সম্প্রতি তিনি পুনরায় প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেন।
গ্রেপ্তারের বিষয়ে নরসিংদী জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল কায়েস আকন্দ গণমাধ্যমকে সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সফল অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের পর তাকে জেলা ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয়। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে সংশ্লিষ্ট মাধবদী থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তরের প্রস্তুতি চলছে।
উল্লেখ্য যে, গত জুলাই ও আগস্ট মাসে সংঘটিত বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে নরসিংদী জেলায় আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি ও হামলার ঘটনায় একাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছে। এসব মামলায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের প্রভাবশালী নেতাদের আসামি করা হয়। নজরুল ইসলাম রিপনের বিরুদ্ধে কেবল মাধবদী নয়, জেলার অন্যান্য স্থানেও নাশকতায় উসকানি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে বলে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
এই গ্রেপ্তারের খবরে নরসিংদীর সচেতন মহল এবং আন্দোলনকারীদের মধ্যে স্বস্তি দেখা গেছে। অন্যদিকে, একজন জ্যেষ্ঠ আইনজীবীর গ্রেপ্তারের ঘটনা জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্যদের মধ্যেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, আসামিকে আদালতে সোপর্দ করে রিমান্ডের আবেদন জানানো হতে পারে, যাতে ঘটনার নেপথ্যে থাকা অন্যান্য সহযোগীদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

