ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চিটাগাংরোড থেকে সোনারগাঁও পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে দিনভর তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) সকালে লাঙ্গলবন্দ ব্রিজ এলাকায় একটি মালবাহী ট্রাক দুর্ঘটনার কবলে পড়লে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। রাত পৌনে ৮টায় এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত মহাসড়কে যানবাহনের ধীরগতি ও দীর্ঘ সারি লক্ষ্য করা গেছে।
কাঁচপুর হাইওয়ে থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে লাঙ্গলবন্দ ব্রিজের ওপর প্রায় ২৭ টন মালামাল বোঝাই একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রেলিংয়ে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে ব্রিজের রেলিং ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি ট্রাকটি আড়াআড়িভাবে আটকে গিয়ে সড়কের এক পাশ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।
উদ্ধার অভিযানে দীর্ঘসূত্রতা ও ভোগান্তি: কাঁচপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল কাদের জিলানী জানান, ট্রাকটিতে অতিরিক্ত মালামাল থাকায় সাধারণ রেকার দিয়ে সেটি সরানো সম্ভব হয়নি। ফলে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে অন্য একটি ট্রাকে প্রথমে মালামাল স্থানান্তর করতে হয়। এই প্রক্রিয়ায় কয়েক ঘণ্টা সময় লেগে যাওয়ায় দুপুরের পর পর্যন্ত যান চলাচল প্রায় অচল হয়ে পড়ে। বিকেলের দিকে দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাকটি সরানো সম্ভব হলেও ততক্ষণে যানজট চিটাগাংরোড পর্যন্ত ছাড়িয়ে যায়।
সড়কে আটকে পড়া যাত্রীবাহী বাস, পণ্যবাহী ট্রাক ও ব্যক্তিগত যানবাহনের হাজার হাজার যাত্রী চরম দুর্ভোগে পড়েন। চট্টগ্রামে যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হওয়া শিউলি আক্তার নামে এক যাত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “তিন ঘণ্টা ধরে একই জায়গায় আটকে আছি। সাথে ছোট বাচ্চা নিয়ে গরমে ও যানজটে খুব বিপদে পড়েছি।” পণ্যবাহী ট্রাকচালক আবুল কালাম জানান, দীর্ঘ সময় সড়কে আটকে থাকায় মালামাল সময়মতো পৌঁছানো নিয়ে তিনি শঙ্কিত, যা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির কারণ হতে পারে।
বর্তমান পরিস্থিতি: হাইওয়ে পুলিশ জানিয়েছে, বিকেল থেকে ধীরে ধীরে যান চলাচল শুরু হলেও গাড়ির অতিরিক্ত চাপের কারণে জট পুরোপুরি কাটেনি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কাঁচপুর হাইওয়ে পুলিশের একাধিক টিম মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে কাজ করছে।
ওসি আব্দুল কাদের জিলানী আশ্বাস দিয়ে বলেন, “ট্রাকটি অপসারণের পর এখন চাকা ঘুরছে। তবে দীর্ঘ সময়ের জট থাকায় স্বাভাবিক গতি ফিরতে আরও কিছুটা সময় লাগবে। আমাদের টিমগুলো পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছে।”
রাত বাড়ার সাথে সাথে যানজটের তীব্রতা কিছুটা কমবে বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ। তবে বড়দিনের ছুটি ও তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষে গাড়ির বাড়তি চাপ থাকায় চালকদের বিকল্প পথ ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছেন অনেকে।

