দীর্ঘ ১৭ বছর পর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে জামালপুর জেলাজুড়ে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। প্রিয় নেতাকে স্বাগত জানাতে জামালপুরের পাঁচটি সংসদীয় আসন থেকে প্রায় ৫০ হাজার নেতাকর্মী ও সমর্থক আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) ঢাকায় সমবেত হওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছেন। যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে ‘জামালপুর স্পেশাল’ নামে একটি বিশেষ ট্রেন ভাড়া করা হয়েছে।
জামালপুর রেলওয়ে জংশন সূত্রে জানা গেছে, ২৫ ডিসেম্বর ভোর ৫টায় ১০টি কোচের বিশেষ ট্রেনটি জামালপুর থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাবে এবং সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছাবে। ট্রেনটি আবার ওইদিন সন্ধ্যা ৭টায় ঢাকা থেকে ফিরতি যাত্রা শুরু করবে। এই বিশেষ ট্রেনের জন্য নির্ধারিত ২ লাখ ১৬ হাজার ৫৬৩ টাকা ভাড়া ইতোমধ্যে পরিশোধ করেছে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতৃবৃন্দ।
দলীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, আসনভিত্তিক নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণ হতে পারে নিম্নরূপ: জামালপুর-০৫ (সদর): প্রায় ৩০ হাজার নেতাকর্মী। জামালপুর-০৩ (মেলান্দহ-মাদারগঞ্জ): প্রায় ৮ হাজার নেতাকর্মী। জামালপুর-০৪ (সরিষাবাড়ী): প্রায় ৫ হাজার নেতাকর্মী। জামালপুর-০১ (দেওয়ানগঞ্জ-বকশীগঞ্জ): ৩ হাজার নেতাকর্মী। জামালপুর-০২ (ইসলামপুর): ১ হাজার ৫০০ নেতাকর্মী।
মেলান্দহ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুরুল হক জানান, প্রতিটি ইউনিয়ন ও পৌরসভার জন্য পৃথক বাস বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া কয়েকশ মাইক্রোবাসও এই কাফেলায় যুক্ত হবে। সরিষাবাড়ী থেকে ৩২টি বাস সরাসরি ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হবে বলে জানিয়েছেন জেলা বিএনপির সভাপতি ফরিদুল কবির তালুকদার শামীম।
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন বলেন, “তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন কেবল বিএনপির জন্য নয়, বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী মানুষের জন্য এক বড় পাওয়া। জামালপুর থেকে সর্বস্তরের মানুষ এই আনন্দ মিছিলে যোগ দিতে উন্মুখ হয়ে আছে। ট্রেন ও বাস ছাড়াও অনেক নেতাকর্মী ব্যক্তিগত উদ্যোগে ইতোমধ্যে ঢাকায় পৌঁছেছেন।”
স্টেশন মাস্টার আকতার হোসেন সেখ জানিয়েছেন, বিশেষ ট্রেনটি জামালপুর থেকে ছেড়ে ময়মনসিংহ, গফরগাঁও, জয়দেবপুর ও বিমানবন্দর স্টেশনে যাত্রাবিরতি দিয়ে কমলাপুর পৌঁছাবে। সার্বিক নিরাপত্তা ও নির্বিঘ্ন যাত্রা নিশ্চিত করতে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।

