নবীন ও বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান ও ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেছেন, এ দেশের আপামর জনতা আর কখনো কোনো আধিপত্যবাদী বা সন্ত্রাসবাদী শক্তির কাছে মাথা নত করবে না।
বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) বিকেলে ফেনী শহরের কিং কমিউনিটি সেন্টারে গণতান্ত্রিক সংস্কার জোট আয়োজিত এক শোক ও সংহতি সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। গত ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে নিহত ওসমান হাদির স্মরণে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
বক্তব্যের শুরুতেই মজিবুর রহমান মঞ্জু বিগত সরকারের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, “শেখ হাসিনা গুম, খুন ও ভয়ের সংস্কৃতি কায়েম করে দীর্ঘ সময় ক্ষমতা আঁকড়ে ধরেছিলেন। তিনি ভেবেছিলেন বুলেটের শক্তিতে টিকে থাকা যাবে। কিন্তু সাধারণ মানুষ যখন জেগে উঠেছে, তখন তিনি পালানোর জন্য ১৫ মিনিট সময়ও পাননি। বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আমি বলতে চাই—তোমাদের ভয়ের কিছু নেই। অন্যায়ের বিরুদ্ধে এই জাগরণই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি।”
ফ্যাসিবাদ বিরোধী লড়াই নিয়ে তিনি দৃঢ় কণ্ঠে ঘোষণা করেন, কোনো অবস্থাতেই বাংলাদেশে আর ফ্যাসিবাদকে ফিরতে দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, “নির্বাচনে জয়লাভ করলেই সবকিছুর মালিক হয়ে যাওয়া যায় না। যারা আগামীতে নির্বাচিত হবেন, তাদের মনে রাখতে হবে যে বিরোধী দলের পরামর্শ ও অংশীদারিত্ব ছাড়া একতরফা শাসন আর চলবে না।
আমরা সুনির্দিষ্ট সংস্কার প্রস্তাব দিয়েছিলাম, কিন্তু কিছু রাজনৈতিক দল এখন সংবিধানের জন্য মায়াকান্না দেখাচ্ছে। অথচ এই সংবিধানের দোহাই দিয়েই আলেম-ওলামা ও সাধারণ মানুষকে হত্যা করা হয়েছিল। তৎকালীন সময়ে বেগম খালেদা জিয়া বলেছিলেন এই সংবিধান ছুঁড়ে ফেলা হবে। এখন যারা ক্ষমতার খুব কাছাকাছি চলে এসেছেন মনে করছেন, তারাই আবার সংবিধানের দোহাই দিয়ে পুরোনো ধারার রাজনীতি করতে চাইছেন।”
নির্বাচনী অঙ্গীকার ও সুশাসন প্রসঙ্গে এবি পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, “অনেকে নির্বাচনের পর বড় বড় স্বপ্ন দেখান। কিন্তু আমরা মনে করি, শুধু যদি চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, দখলদারিত্ব ও মবসন্ত্রাস বন্ধ করা যায়, তবেই দেশে শান্তি ফিরবে। প্রশাসন এবং পুলিশ বাহিনীকে যদি রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থেকে মুক্ত রাখা যায়, তবেই রাষ্ট্র সত্যিকারের সংস্কারের পথে হাঁটবে। আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তোলা যেখানে ক্ষমতা কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর হাতে কুক্ষিগত থাকবে না।”
সমাবেশে তিনি আগামী নির্বাচনকে শহীদদের রক্তের বদলা নেওয়ার নির্বাচন হিসেবে অভিহিত করে বলেন, “নতুন ধারার রাজনীতি নিয়ে অনেকেই সংশয় প্রকাশ করেন। তারা বলেন রাজনীতিতে টিকে থাকতে টাকা আর পেশিশক্তির প্রয়োজন। কিন্তু আবু সাঈদ আর ওসমান হাদিরা প্রমাণ করেছেন যে আদর্শের লড়াইয়ের কাছে পেশিশক্তি তুচ্ছ। আগামীর নির্বাচন হবে নতুন এক রাজনৈতিক সমীকরণের নির্বাচন, যা দেশকে আমূল পরিবর্তনের দিকে নিয়ে যাবে।”
এবি পার্টি ফেনী জেলা কমিটির আহ্বায়ক মাস্টার আহছান উল্ল্যাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ, এবং এবি পার্টির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক প্রকৌশলী শাহ আলম বাদল। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন এনসিপির জেলা সদস্য সচিব শাহ ওয়ালী উল্লাহ মানিক ও অধ্যাপক ফজলুল হক। বক্তারা প্রত্যেকেই একটি কল্যাণকর ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠনে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

