সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থানা এলাকায় যমুনা নদীতে বালুবাহী একটি ড্রেজার থেকে গণঅধিকার পরিষদের এক নেতার মরদেহ উদ্ধার করেছে নৌ পুলিশ। সোমবার (২২ ডিসেম্বর) দুপুরে শাহজাদপুর উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের পাড়ামোহনপুর সংলগ্ন নদী এলাকা থেকে এই মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত ব্যক্তির নাম হাফিজুল ইসলাম হাফিজ (৩১), যিনি এনায়েতপুর থানা গণঅধিকার পরিষদের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তিনি বাঐখোলা গ্রামের কমল মুন্সীর সন্তান।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, হাফিজুল ইসলাম হাফিজ রাজনীতির পাশাপাশি যমুনা নদীতে বালুর ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। পাড়ামোহনপুর, জালালপুর ও আড়কান্দি এলাকায় আরও কয়েকজনের সাথে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে তিনি বালু তোলার ড্রেজার পরিচালনা করতেন।
গত রোববার (২১ ডিসেম্বর) দিবাগত রাতে কাজ শেষে ড্রেজারের একটি বাল্কহেডে সহকর্মীদের সঙ্গে রাতের খাবার খেয়ে সেখানেই ঘুমিয়ে পড়েন তিনি। সোমবার সকালে সহকর্মীরা তাকে দীর্ঘক্ষণ অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে বিচলিত হয়ে পড়েন এবং তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে সংবাদ দেন।
খবর পেয়ে এনায়েতপুর থানা পুলিশ ও চৌহালী নৌ থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ গিয়ে বাল্কহেডের ভেতর থেকে হাফিজের নিথর দেহটি উদ্ধার করে। প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদনে নিহতের শরীরে বাহ্যিক কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে চৌহালী নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ফিরোজ উদ্দিন গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, হাফিজের মৃত্যুটি প্রাথমিকভাবে একটি স্বাভাবিক শারীরিক দুর্ঘটনা বা ঘুমের মধ্যে স্ট্রোকজনিত কারণে হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পুলিশ আরও জানায়, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের সন্দেহ বা অভিযোগ উত্থাপন না করায় এবং কোনো মামলা করার দাবি না থাকায় মরদেহটি ময়নাতদন্ত ছাড়াই স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। স্থানীয় গণঅধিকার পরিষদের এই নেতার অকাল প্রয়াণে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দলের স্থানীয় নেতা-কর্মীরা হাফিজের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।

