বর্তমান ধান কাটার মৌসুমেও চালের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। তিনি মনে করেন, এই মূল্য নিয়ন্ত্রণে আনতে হলে ব্যবসায়ীদের আরও বেশি দায়িত্বশীল হতে হবে।
সোমবার (২৪ নভেম্বর ২০২৫) সচিবালয়ে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি চালের দাম বৃদ্ধি সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে এই মন্তব্য করেন।
সাংবাদিকরা অর্থ উপদেষ্টার কাছে জানতে চান যে, ধান কাটার মৌসুম হওয়া সত্ত্বেও চালের দাম ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার পেছনে কোনো সিন্ডিকেট বা অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না। জবাবে ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, চালের মূল্য শুধু সরবরাহের (সাপ্লাই) ওপর নির্ভর করে না। সরবরাহের বাইরেও “ডিস্ট্রিবিউশন চ্যানেলগুলো, এগুলো তো বেশিরভাগ হোলসেল ও রিটেলের ওপর ডিপেন্ড করে।”
তিনি আরও বলেন, এই বিষয়টি তদারকির দায়িত্ব ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এবং স্থানীয় প্রশাসনের রয়েছে।
ব্যবসায়ীদের দায়িত্বশীলতার উপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, “আর সবচেয়ে বেশি হলো আমাদের যারা ব্যবসায়ীরা আছেন, তাদেরকে একটু দায়িত্বশীল হতে হবে।” তিনি আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটের সঙ্গে তুলনা করে বলেন, “সমস্যা হলো পৃথিবীর অন্যান্য দেশে কিন্তু এভাবে জিনিসপত্রের দাম বাড়ে না। বাড়ে কিন্তু যথেষ্ট যৌক্তিক কারণে। এখানে দেখা যাচ্ছে অনেক চাল আছে, তবুও হঠাৎ এক জায়গায় ওরা মিলেমিশে… করে।” তাঁর এই মন্তব্য মূল্যবৃদ্ধিতে অসাধু চক্রের যোগসাজশের দিকে ইঙ্গিত করে।
অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ মনে করেন, এই ধরনের সমস্যাগুলোর স্থায়ী সমাধান কেবল প্রশাসনিকভাবে সম্ভব নয়। তিনি বলেন, “এগুলোর সমাধান প্রশাসনিকভাবে হয় না। এগুলোর সমাধান কিন্তু একটা রাজনৈতিক সরকার করতে পারে।”
তিনি এর কারণ ব্যাখ্যা করে বলেন, একটি রাজনৈতিক সরকারের নৈতিক শক্তি (Moral Authority) থাকে, তাদের ভয়েস দেওয়ার ক্ষমতা থাকে এবং তাদের কর্মী ও সেটআপ থাকে। কিন্তু প্রশাসন থেকে শুধু ডিসি বা ইউএনওকে পাঠিয়ে এগুলো নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন।
পুলিশের জন্য বডি ক্যামেরা কেনা সংক্রান্ত সাংবাদিকদের অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ বিষয়ে তারা একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সিদ্ধান্তটি হলো, “ওদের (পুলিশের) রেসপেক্টিভ যে এজেন্সি আছে, ওদেরকে আমরা বলে দিয়েছি, বাজেট যেটা আছে ওটা আপনারা ব্যবহার করেন।”
বডি ক্যামেরা শুধু স্পর্শকাতর (Sensitive) এলাকার জন্য দেওয়া হবে—আগের এই বক্তব্যের ভিত্তিতে ক্যামেরার সংখ্যা কত হতে পারে, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি স্পষ্ট করেন যে এই সংখ্যা নির্ধারণ করা তাঁর বা উপদেষ্টা পরিষদের দায়িত্ব নয়।
তিনি বলেন, “এটা আমি ঠিক করব না, এটা তো আমাদের দায়িত্ব না। এটা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের যে এজেন্সিগুলো আছে তাদের সঙ্গে বসে ঠিক করবে।” তিনি আরও যোগ করেন যে বডি ক্যামেরা বা অন্যান্য সুরক্ষা সরঞ্জাম নিশ্চিত করার দায়িত্ব সরাসরি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের। নির্বাচন কমিশন (ইসি) শুধু নির্দেশনা দেবে যে কোন কোন জায়গায় ক্যামেরা নিতে হবে, কিন্তু এর বাস্তবায়ন করবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা পুলিশ, বিজিবি, র্যাব এবং অন্যান্য সংস্থাগুলো।

