আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী ফুটবল তারকা লিওনেল মেসির তিন দিনের ‘গোট ট্যুর অফ ইন্ডিয়া’ আয়োজনের প্রথম দিনেই কলকাতায় তুলকালাম কাণ্ড ঘটেছে। চরম অব্যবস্থাপনার কারণে যুব ভারতী ক্রীড়াঙ্গনে (সল্ট লেক স্টেডিয়াম) ক্ষুব্ধ সমর্থকরা ভাঙচুর চালান এবং প্রধান উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্তকে ইতোমধ্যে আটক করা হয়েছে। এই পুরো ঘটনায় নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে বিবৃতি দিয়েছে সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন (এআইএফএফ)।
মেসির এই সফরে তাঁর সঙ্গী ছিলেন স্বদেশি মিডফিল্ডার রদ্রিগো ডি পল এবং সাবেক উরুগুয়ের তারকা লুইস সুয়ারেজ। যুব ভারতী ক্রীড়াঙ্গনে তাঁদের দেখতে হাজার হাজার সমর্থক চড়া মূল্যে টিকিট কেটে হাজির হয়েছিলেন। মেসি, সুয়ারেজরা মাঠে আসেন ১১টায় এবং থাকেন ১১টা ৫২ মিনিট পর্যন্ত।
স্টেডিয়ামে পৌঁছানোর পর থেকেই তারকাদের ঘিরে জটলা শুরু হয়। গাড়ি থেকে নামার পর, বিশেষ করে স্টেডিয়ামে প্রবেশের সময় অন্তত ৭০-৮০ জন মানুষ, যাদের অধিকাংশই মূলত মন্ত্রী ও কর্তা, তাঁদের ঘিরে ধরেন। এই ভিড়ের কারণে দর্শকরা প্রিয় তারকাকে ঠিকমতো দেখতে পাননি। মেসি স্টেডিয়াম ত্যাগ করার পরই ক্ষুব্ধ সমর্থকরা স্টেডিয়ামের বিভিন্ন সম্পদের ক্ষতিসাধন ও ভাঙচুর চালান।
এই ইভেন্টের আয়োজন এবং পরবর্তী বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি থেকে নিজেদের দূরত্ব বজায় রেখে অল ইন্ডিয়া ফুটবল ফেডারেশন (এআইএফএফ) একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে। এআইএফএফ জানিয়েছে:
“বিবেকানন্দ যুব ভারতী ক্রীড়াঙ্গন থেকে ছড়িয়ে পড়া ঘটনায় এআইএফএফ গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। যেখানে ফুটবলের বিশ্বতারকা মেসি, সুয়ারেজ ও ডি পলকে দেখতে হাজারো মানুষ জমায়েত হন। এই ইভেন্টের আয়োজক একটি বেসরকারি পিআর এজেন্সি। এই সংক্রান্ত কোনো সংস্থা, পরিকল্পনা কিংবা ইভেন্ট বাস্তবায়নের সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত নয় এআইএফএফ।”
ফেডারেশন আরও জানিয়েছে, এই ইভেন্টের কোনো বিস্তারিত তথ্য তাদের জানানো হয়নি এবং ফেডারেশন কোনো ছাড়পত্রও দেয়নি। এআইএফএফ ফুটবলভক্ত ও সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, তারা যেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সহায়তা করে এবং যথাযথ শৃঙ্খলা অনুসরণ করে। এই মুহূর্তে সংশ্লিষ্ট সবার সুরক্ষা ও নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে বলা হয়েছে।
এদিকে, পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের অ্যাডিশনাল ডিরেক্টর জেনারেল জায়েদ শামিম জানিয়েছেন, এই বিশৃঙ্খলার ঘটনায় ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং কারা দায়ী তা চিহ্নিত করার কাজ চলছে। তিনি নিশ্চিত করেছেন, “এতে জড়িত প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনা হবে। প্রধান উদ্যোক্তাকে আটক করা হয়েছে ইতোমধ্যে।”
অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের ডিজিপি রাজিব কুমার জানিয়েছেন যে কলকাতার পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক। তিনি দর্শকদের অর্থ ফেরত দেওয়ার বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এবং বলেছেন:
“কলকাতার পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক। ইতোমধ্যে দর্শকদের টাকা ফেরত দেওয়ার বিষয়ে তাদের লিখিত প্রতিশ্রুতি চেয়েছে পুলিশ। শতদ্রু দত্তকে বিমানবন্দর থেকে আটক করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী পুরো ঘটনায় দুঃখপ্রকাশ করেছেন। আয়োজক কমিটির চূড়ান্ত অব্যবস্থাপনার উদাহরণ এটি। আমাদের প্রত্যাশা ভুক্তভোগী দর্শকদের অর্থ ফেরত দেওয়া হবে এবং ততক্ষণ পর্যন্ত তাদের সংযত থাকার অনুরোধ করছি।”
আয়োজক কমিটির চূড়ান্ত অব্যবস্থাপনার কারণেই এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে বলে কর্তৃপক্ষ মনে করছে এবং বিষয়টি ভালোভাবে তদন্ত করা হবে।
