জাতীয় নিরাপত্তা ও তৃণমূলের আর্থসামাজিক উন্নয়নে নিয়োজিত শৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও আধুনিক করার রূপরেখা দিলেন সরকারপ্রধান। বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীকে সময়ের প্রয়োজনে আরও দক্ষ, আধুনিক ও গতিশীল করে তুলতে একটি সুনির্দিষ্ট ও দীর্ঘমেয়াদী কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
আজ বুধবার (২০ মে) সকালে গাজীপুরের সফিপুরে অবস্থিত বাংলাদেশ আনসার ভিডিপি একাডেমির মিলনায়তনে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই নির্দেশনা দেন। বাহিনীর ৪৬তম জাতীয় সমাবেশ-২০২৬ উপলক্ষ্যে সেখানে এক আকর্ষণীয় ব্যুত্থান মহড়া প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে স্পষ্ট করেন যে, একটি বিশাল বাহিনীর ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে হলে যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে হবে। আর সেজন্যই প্রয়োজন সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ও দূরদর্শী পরিকল্পনা। তিনি বিশ্বাস করেন, সঠিক কর্মপরিকল্পনাই এই বাহিনীকে ভবিষ্যতে আরও জনবান্ধব ও কার্যকর সংস্থায় রূপান্তরিত করবে।
সফিপুরের এই একাডেমি মিলনায়তনে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সাধারণ সদস্যদের উপস্থিতিতে মুখরিত ছিল চারপাশ। প্রধানমন্ত্রী তাদের উদ্দেশ্য করে দেশের সংকটকালীন মুহূর্তে এই বাহিনীর গৌরবময় ও ঐতিহাসিক অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন।
তিনি বলেন, “বাংলাদেশ যখনই কোনো কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে, তখনই আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা নিজেদের মেলে ধরেছেন। বিশেষ করে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে যখন দেশে এক ধরণের প্রশাসনিক শূন্যতা তৈরি হয়েছিল, তখন আপনারা অনন্য ভূমিকা রেখেছেন।”
বিপ্লব পরবর্তী সেই জটিল সময়ে দেশের ভেঙে পড়া আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সচল করতে আনসার সদস্যরা এগিয়ে এসেছিলেন। সারা দেশের সব থানা পাহারা দেওয়া, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিয়ন্ত্রণ করা এবং রাষ্ট্রের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কেপিআই বা জাতীয় স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা দিনরাত কাজ করেছেন।
কেবল প্রথাগত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাই নয়, বর্তমান সময়ে আনসার ও ভিডিপি সদস্যরা সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখছেন। পাশাপাশি প্রাকৃতিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং প্রযুক্তিনির্ভর নাগরিক সেবা দেওয়ার মতো বহুমাত্রিক ও গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রেও এই বাহিনীর সদস্যরা প্রতিনিয়ত সক্রিয় অবদান রাখছেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উল্লেখ করেন, দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা এবং সীমান্ত সুরক্ষায় আনসার-ভিডিপির রয়েছে দীর্ঘদিনের মাঠ পর্যায়ের অভিজ্ঞতা। এই বিশাল বাহিনীর কর্মকর্তা ও সদস্যদের সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে একটি প্রাতিষ্ঠানিক ‘ভিশন’ তৈরি করার সময় এসেছে।
শৃঙ্খলা বাহিনীর মূল ভিত্তির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, “যেকোনো সুশৃঙ্খল বাহিনীর জন্য অনিবার্য এবং অবশ্য পালনীয় প্রথম নীতি হচ্ছে ‘চেইন অব কমান্ড’ এবং কঠোর ‘ডিসিপ্লিন’ মেনে চলা। এই দুটি জায়গায় সামান্যতম ছাড় দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।”
তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, শৃঙ্খলা ও আদেশের ধারাবাহিকতায় সামান্যতম অবহেলা বা বিচ্যুতি দেখা দিলে কোনো বাহিনীই আর সুশৃঙ্খল থাকতে পারে না। এই বিষয়টি প্রতিটি সদস্যকে অন্তরে ধারণ করতে হবে। কারণ ডিসিপ্লিনের অভাব দেখা দিলে সাধারণ মানুষের মনে বাহিনীর প্রতি আস্থার সংকট তৈরি হয়।
জনগণের এই আস্থার সংকট যেন কখনো তৈরি না হয়, সে বিষয়ে বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আনসার বাহিনীর মূল শক্তি নিহিত রয়েছে এর কাঠামোগত বিন্যাসের মধ্যে, যা একে দেশের প্রতিটি প্রান্তে বিস্তৃত করেছে।
বাহিনীর চারটি প্রধান স্তম্ভের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন—ব্যাটালিয়ন আনসার, অঙ্গীভূত আনসার, থানা বা উপজেলা আনসার এবং ভিডিপি-টিডিপি। এই প্রতিটি ইউনিট সমন্বিতভাবে কাজ করার ফলেই দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা এবং তৃণমূল পর্যায়ের আর্থসামাজিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে।
এই অনন্য কাঠামোর কারণেই বাহিনীটি একদিকে যেমন কেন্দ্রীয়ভাবে শক্তিশালী, অন্যদিকে তৃণমূলভিত্তিক শক্তি হিসেবে দেশের সাধারণ মানুষের খুব কাছাকাছি অবস্থান করছে। বর্তমান দেশের অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলায় তাদের উপস্থিতি অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।
পরিসংখ্যান তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশে সচল ৪৭টি আনসার ব্যাটালিয়নের মধ্যে ১৬টি ব্যাটালিয়নই পার্বত্য চট্টগ্রামের অত্যন্ত দুর্গম ও সংবেদনশীল বিভিন্ন অঞ্চলে নিয়োজিত রয়েছে। তারা সেখানে অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করছে।
এর বাইরে প্রায় ৫২ হাজার অঙ্গীভূত আনসার সদস্য দেশের অর্থনৈতিক চাকা সচল রাখতে অবদান রাখছেন। তারা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দফতর, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, বৃহৎ শিল্পকারখানা এবং দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলোর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছেন।
পার্বত্য অঞ্চলের সম্প্রীতি রক্ষায় এই বাহিনীর অবদান তুলে ধরে তিনি বলেন, ১৩ হাজারেরও বেশি হিল আনসার ও হিল ভিডিপি সদস্য পাহাড়ের বিভিন্ন ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে পারস্পরিক আস্থা, শান্তি ও সামাজিক সম্প্রীতি জোরদার করতে অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন।
একইভাবে সমতলের সামাজিক পরিবর্তনেও এই বাহিনী নীরব বিপ্লব ঘটিয়ে চলেছে। দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে একটি পুরুষ ও একটি মহিলা ভিডিপি প্লাটুন কাজ করছে। তারা বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, নারী নির্যাতন মোকাবিলা এবং মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
শহরাঞ্চলেও এই বাহিনীর উপস্থিতি বেশ চোখে পড়ার মতো। নগর এলাকায় নিয়োজিত টিডিপি সদস্যরা শহরের নিরাপত্তা জোরদারে এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখছেন। ফলে এই বাহিনী এখন কেবল লাঠি-বাঁশি হাতে পাহারা দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, তারা সামাজিক পরিবর্তনের বড় মাধ্যম।
প্রথাগত দায়িত্বের বাইরে আনসার ও ভিডিপি বর্তমান সময়ে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে নিজেদের দক্ষ করে তুলছে। একই সঙ্গে গ্রামীণ যুবসমাজের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেও তারা ভূমিকা রাখছে, যা দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক এবং আশাব্যঞ্জক।
সরকারের বিশেষ ‘সঞ্জীবন প্রকল্পের’ মাধ্যমে গ্রামভিত্তিক ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা সৃষ্টি করা হচ্ছে। এছাড়া আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংক এবং ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের মাধ্যমে গ্রামীণ যুবকদের কোনো জামানত ছাড়াই সহজ শর্তে ঋণ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে, যা গ্রামীণ অর্থনীতিতে গতি এনেছে।
কারিগরি ও ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে গ্রামীণ যুবসমাজকে স্বাবলম্বী করে তোলার এই উদ্যোগকে স্বাগত জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বৈদেশিক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির জন্য আনসার ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট যে উদ্যোগ নিয়েছে, তা সত্যিই অত্যন্ত সময়োপযোগী।
প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে একটি রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স নেওয়ার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এই লাইসেন্স পেলে আনসার ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের মাধ্যমে বাহিনীর দক্ষ সদস্যদের বিদেশে উচ্চ বেতনে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে, যা রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধিতে সাহায্য করবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ আনসার এখন মানবসম্পদ উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। সময়ের চাহিদার কথা বিবেচনা করে তারা জাপানি ভাষা প্রশিক্ষণ, ফ্রিল্যান্সিং, ডিজিটাল মার্কেটিং এবং অত্যাধুনিক ৬জি ওয়েল্ডিংসহ বহুমাত্রিক ও কারিগরি প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে।
এই আধুনিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচির ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি বলেন, এসব উদ্যোগ বর্তমান সরকারের অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান সম্প্রসারণের কৌশলগত লক্ষ্যের সঙ্গে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ। এর মাধ্যমে বাহিনীটি একটি কার্যকর মানবসম্পদ উন্নয়ন প্ল্যাটফর্মে রূপান্তরিত হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে টিকে থাকার জন্য এই ধরনের দক্ষতা উন্নয়নমূলক কার্যক্রম আনসার সদস্যদের আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলবে। একই সঙ্গে এটি দেশে ও বিদেশে আনসার ও ভিডিপির প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা এবং মর্যাদাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।
প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময়ে এই বাহিনীর মানবিক চেহারার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় আনসার-ভিডিপি এখন একটি নির্ভরযোগ্য এবং প্রথম সাড়াদানকারী বা “First Responder” স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী হিসেবে দেশের মানুষের মন জয় করতে সক্ষম হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ের বিভিন্ন বন্যা ও ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এই বাহিনীর সদস্যরা যেভাবে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন, তাদের সেই সাহসিকতা, দ্রুততা ও মানবিক দায়বদ্ধতা জাতীয় পর্যায়ে দৃষ্টান্তমূলক এবং প্রশংসার দাবিদার বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।
একই সঙ্গে পরিবেশ সুরক্ষায় এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় এই বাহিনী কাজ করছে। রেইন ওয়াটার হারভেস্টিং, সোলার প্যানেল স্থাপন এবং প্রত্যন্ত গ্রামে বায়োগ্যাস প্লান্ট তৈরির মতো পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে তারা টেকসই উন্নয়নের পথে দৃঢ়ভাবে এগিয়ে যাচ্ছেন।
কেবল রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বা সামাজিক কাজই নয়, দেশের ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সাফল্য অত্যন্ত উজ্জ্বল। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় এই বাহিনীর অ্যাথলেটরা নিয়মিত দেশের জন্য গৌরব বয়ে আনছেন।
প্রধানমন্ত্রী মনে করিয়ে দেন, ৫ম, ৬ষ্ঠ ও ৭ম বাংলাদেশ গেমসে পরপর তিনবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার অনন্য গৌরব অর্জন করেছিল এই বাহিনী। আর এই অসামান্য সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীকে ২০০৪ সালে দেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ‘স্বাধীনতা পদক’ দেওয়া হয়।
দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে নিরাপদ রাখতেও এই বাহিনী ভূমিকা রাখছে। আন্তর্জাতিক মানের বিভিন্ন ক্রিকেট ও ফুটবল ম্যাচ যেন সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন হতে পারে, সেজন্য দেশের ১০টি বড় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে ৩৭৯ জন অঙ্গীভূত আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
বর্তমান সরকার খেলাধুলাকে একটি স্থায়ী পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সব ধরনের নীতিগত উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। ক্রীড়াবিদদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে এবং তাদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি সুনির্দিষ্ট বেতন কাঠামোর আওতায় এনে ‘স্পোর্টস কার্ড’ চালু করা হয়েছে।
ইতিমধ্যেই দেশের বিভিন্ন ইভেন্টের সফল খেলোয়াড়দের এই কার্ড দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে আনসার ভিডিপির ১৫ জন প্রতিশ্রুতিশীল ক্রীড়াবিদও রয়েছেন। এই ব্যবস্থার ফলে খেলোয়াড়েরা এখন নিশ্চিন্তে নিজেদের খেলার ওপর মনোযোগ দিতে পারছেন।
বাহিনীর অভ্যন্তরীণ সংস্কার ও আধুনিকায়নের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী একটি বড় সুখবর দেন। তিনি জানান, আনসার এবং ভিডিপি বাহিনীর সার্বিক কাঠামোগত উন্নয়নের অংশ হিসেবে ‘আনসার ব্যাটালিয়ন বিধিমালা, ২০২৬’ সহ বেশ কয়েকটি নতুন বিধিমালার খসড়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
এই তালিকায় আরও রয়েছে—ভিডিপি প্রবিধানমালা, ২০২৬; অঙ্গীভূত আনসার বিধিমালা, ২০২৬ এবং আনসার ব্যাটালিয়ন সদস্য নিয়োগ ও পদোন্নতি বিধিমালা, ২০২৬। এই নতুন আইন ও বিধিমালাগুলো পাস হলে দীর্ঘদিনের পদোন্নতি জটিলতা ও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আসবে।
একই সঙ্গে উপজেলা পর্যায়ে এই বাহিনীর প্রশাসনিক ও আভিযানিক কার্যক্রম আরও শক্তিশালী ও গতিশীল করার লক্ষ্যে ‘উপজেলা আনসার প্রবিধিমালা ২০২৬’ প্রণয়নের কাজও সরকার হাতে নিয়েছে বলে নিশ্চিত করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও চাকুরির শৃঙ্খলা আরও জোরদার করার লক্ষ্যে ইতিমধ্যেই বাহিনীর সদর দফতরে সর্বাধুনিক বায়োমেট্রিক উপস্থিতি ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এই পদক্ষেপটি একটি আধুনিক, ডিজিটাল এবং জবাবদিহিমূলক প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনার বড় দৃষ্টান্ত।
এর আগে আজ সকাল ঠিক ৯টায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সফিপুরের আনসার ভিডিপি একাডেমির ইয়াদ আলী প্যারেড গ্রাউন্ডে এসে পৌঁছান। সেখানে তাকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। তিনি দীর্ঘ সময় ধরে আনসারদের মৌলিক প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ উপভোগ করেন।
আনুষ্ঠানিক বক্তব্য শেষ করার পর প্রধানমন্ত্রী দেশের প্রতিটি জেলা থেকে আসা আনসার বাহিনীর মাঠ পর্যায়ের সদস্যদের সাথে সরাসরি মতবিনিময় করেন। তিনি অত্যন্ত মনোযোগ দিয়ে তাদের স্থানীয় সমস্যা, আবাসন সংকট এবং সুযোগ-সুবিধার অভাবের কথা শোনেন এবং তা দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেন।

