রাজধানীর শাহবাগে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সমাবেশে আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ দেশের প্রচলিত রাজনৈতিক কাঠামোর তীব্র সমালোচনা করে বিতর্কিত ও কড়া মন্তব্য করেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, রাজনৈতিক দলগুলো কেবল ক্ষমতার লোভে পড়ে যোগ্য নেতৃত্বের পরিবর্তে ‘ফকির, মিসকিন ও বস্তির ছেলেদের’ দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসিয়েছে।
শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির ওপর নৃশংস হামলার প্রতিবাদে আয়োজিত কর্মসূচিতে তিনি এসব কথা বলেন। তার মতে, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটি বিশেষ মহল ক্ষমতায় গেলে বাংলাদেশকে পুনরায় দিল্লির আধিপত্যের কাছে সমর্পণ করবে।
শাহবাগের ওই সমাবেশে ব্যারিস্টার ফুয়াদ গত পাঁচ দশকের বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, একটি রাষ্ট্র বা জাতিকে প্রকৃত অর্থে স্বাধীন হয়ে উঠতে হলে সবার আগে নিজের শত্রুকে চিনতে হয়। কিন্তু গত ৫৪ বছর ধরে বাংলাদেশের মানুষকে ভুল বুঝিয়ে প্রকৃত শত্রুকে ‘বন্ধু’ হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই দীর্ঘ সময়ে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, জাতীয় স্বার্থ এবং আত্মমর্যাদাকে বারবার ভুলুণ্ঠিত করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
রাজনৈতিক নেতৃত্বের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, যারা আজ বড় বড় দলের নেতা হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন, তাদের অনেকেই উঠে এসেছেন অত্যন্ত নিম্ন আর্থসামাজিক অবস্থান থেকে, যাদের তিনি ‘বস্তির ছেলে’ হিসেবে অভিহিত করেন। তার মতে, এই শ্রেণির নেতাদের জাতীয় স্বার্থ বা সার্বভৌমত্ব সম্পর্কে কোনো স্বচ্ছ ধারণা নেই।
ব্যারিস্টার ফুয়াদ তার বক্তব্যে প্রতিবেশী দেশ ভারতের প্রসঙ্গ টেনে এনে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বর্তমানে যারা পাড়ায়-মহল্লায় গিয়ে ভোট চাইছেন এবং আগামী সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তাদের মধ্যে একটি বড় অংশ জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের চেতনার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করার পায়তারা করছে।
তিনি সরাসরি অভিযোগ করেন যে, এই নেতৃত্ব ক্ষমতায় গেলে বাংলাদেশকে নতুন করে দিল্লির কাছে ‘বেচে দেওয়ার’ বা নতজানু পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণ করার চক্রান্ত করছে। তার ভাষায়, এরা হাজার বছরের ইতিহাস ও লড়াই-সংগ্রামের তাৎপর্য বোঝে না, এরা কেবল ক্ষমতায় যাওয়ার অন্ধ প্রতিযোগিতায় লিপ্ত।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলেন, বাংলাদেশ আর কোনোভাবেই ৫ আগস্টের পূর্ববর্তী অবস্থায় ফিরে যাবে না এবং আওয়ামী লীগের মতো কোনো স্বৈরাচারী শক্তিকে এদেশে পুনর্বাসিত হতে দেওয়া হবে না।
আগামীর বাংলাদেশ হবে আত্মমর্যাদাশীল এবং দিল্লির আজ্ঞাবহ কোনো সরকার এ দেশের মানুষের ভাগ্য নির্ধারণ করতে পারবে না। ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদির ওপর হামলার বিচার দাবি করার পাশাপাশি তিনি দেশবাসীকে এই ‘দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের’ বিরুদ্ধে সজাগ থাকার আহ্বান জানান।
