রাজধানীর উপকণ্ঠ সাভারে এক যুবককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করেছে অজ্ঞাতপরিচয় দুর্বৃত্তরা। সোমবার (৩০ মার্চ) দুপুরে সাভারের তেঁতুলঝড়া ইউনিয়নের যাদুরচর এলাকার আনন্দনগর হাউজিং প্রকল্পের ভেতর থেকে ওই যুবকের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত যুবকের নাম মহিদুল ইসলাম (৩২)। তিনি ঝিনাইদহ জেলার সদর থানার চরমোড়ারিদ গ্রামের আব্দুর সাত্তার মণ্ডলের ছেলে। জনমানবহীন হাউজিং প্রকল্পের একটি ফ্ল্যাটের ভেতর তাকে অত্যন্ত নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সোমবার বেলা ১১টার দিকে আনন্দনগর হাউজিংয়ের ভেতরে স্বপন নামে এক ব্যক্তির ফ্ল্যাটের ভেতর রক্তাক্ত অবস্থায় মহিদুলের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন প্রতিবেশীরা। পরে খবর পেয়ে সাভার মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। নিহতের পরিচয় নিশ্চিত করতে আঙুলের ছাপ (ফিঙ্গারপ্রিন্ট) প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়।
সাভার মডেল থানার ট্যানারি ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মেহেদী হাসান জানান, নিহত মহিদুলকে অত্যন্ত নির্দয়ভাবে জবাই করে হত্যা করা হয়েছে। তার গলায় গভীর ক্ষত ছাড়াও মাথায় ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। পুলিশের ধারণা, রোববার রাতের কোনো এক সময় দুর্বৃত্তরা তাকে ওই নির্জন স্থানে ডেকে এনে অথবা ওত পেতে থেকে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।
পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, “প্রাথমিক আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে এবং মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে কী কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পূর্ব শত্রুতা নাকি অন্য কোনো কারণে এই নৃশংসতা—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
হত্যাকাণ্ডের শিকার মহিদুল ওই এলাকায় কী কাজে এসেছিলেন বা কার সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা গুঞ্জন চলছে। দিনের আলোয় হাউজিং প্রকল্পের ভেতর এমন বিভীষিকাময় হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় যাদুরচর ও আনন্দনগর এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
সাভার মডেল থানা পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় থানায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। অপরাধীদের শনাক্ত করতে হাউজিং প্রকল্পের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা নেওয়া হচ্ছে। দ্রুতই খুনিদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে বলে আশা করছে পুলিশ। তবে দিনদুপুরে এই হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

