সিরাজগঞ্জে দেশের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করার জেরে আইনি মারপ্যাঁচে পড়েছেন কুষ্টিয়ার সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা মুফতি আমির হামজা। মন্ত্রীকে ‘নাস্তিক’ ও ‘ইসলাম বিদ্বেষী’ বলে অভিহিত করার অভিযোগে সোমবার তার বিরুদ্ধে ১০০ কোটি টাকার একটি বিশাল অঙ্কের মানহানির মামলা দায়ের করা হয়েছে।
সিরাজগঞ্জ সদর আমলি আদালতে এই মামলাটি করেন জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এস এম নাজমুল ইসলাম। দণ্ডবিধির ৫০০ ধারায় দায়ের করা এই অভিযোগটি আদালতের বিচারক সুমন কুমার কর্মকার আমলে নিয়েছেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আদেশ না দিয়ে বিষয়টি আদেশের অপেক্ষায় রাখা হয়েছে।
মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, গত শুক্রবার (২৭ মার্চ) কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হাটশ হরিপুর বড় জামে মসজিদে জুমার নামাজের খুতবার আগে আলোচনা করছিলেন কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজা। সেখানে তিনি বিদ্যুৎমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর ধর্মীয় বিশ্বাস নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং তাকে অত্যন্ত আপত্তিকর ভাষায় আক্রমণ করেন। তার এই বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সিরাজগঞ্জসহ দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
মামলার বাদী অ্যাডভোকেট এস এম নাজমুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, “মুফতি আমির হামজা একজন দায়িত্বশীল অবস্থানে থেকে সরকারের একজন সিনিয়র মন্ত্রীর বিরুদ্ধে যে ধরনের কুরুচিপূর্ণ ও ভিত্তিহীন মন্তব্য করেছেন, তাতে মন্ত্রীর ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক সম্মান চরমভাবে ক্ষুণ্ণ হয়েছে। ধর্মকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে কাউকে নাস্তিক ঘোষণা করা কেবল মানহানিকর নয়, বরং এটি সমাজে বিশৃঙ্খলা তৈরির একটি অপচেষ্টা। এই অপমানের বিচার চাইতেই আমি আদালতের দ্বারস্থ হয়েছি।”
উল্লেখ্য, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বর্তমান সরকারের অন্যতম নীতি নির্ধারক এবং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। তার মতো একজন নেতার বিরুদ্ধে সরাসরি ‘ইসলাম বিদ্বেষী’ তকমা লাগিয়ে দেওয়ায় ক্ষুব্ধ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ। সিরাজগঞ্জের রাজনৈতিক মহলে এই মামলাটি নিয়ে এখন ব্যাপক চাঞ্চল্য বিরাজ করছে।
আইনজীবীরা মনে করছেন, ১০০ কোটি টাকার এই মানহানির মামলাটি মুফতি আমির হামজার জন্য বড় ধরনের আইনি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। যদি অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তবে তাকে কেবল জরিমানা নয়, কারাদণ্ডও ভোগ করতে হতে পারে। অন্যদিকে, মুফতি আমির হামজার পক্ষ থেকে এখনো এই মামলার বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
সাম্প্রতিক সময়ে ধর্মীয় সভা বা রাজনৈতিক বক্তৃতায় ব্যক্তিগত আক্রমণ এবং মানহানিকর বক্তব্যের বিরুদ্ধে প্রশাসনের জিরো টলারেন্স নীতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সিরাজগঞ্জের এই মামলাটি সেই কঠোর অবস্থানেরই একটি প্রতিফলন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এখন দেখার বিষয়, আদালত এই মামলার আদেশে কী নির্দেশনা দেন এবং কুষ্টিয়ার এই সংসদ সদস্যের আইনি ভবিষ্যৎ কোন দিকে মোড় নেয়।

