সাংবাদিকদের মধ্যে থাকা বিভাজন এবং দলীয়করণের প্রবণতার তীব্র সমালোচনা করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি মন্তব্য করেছেন যে, এই বিভক্তির কারণেই সাংবাদিকরা নিজেদের দুর্বল করে ফেলেন এবং ফলস্বরূপ রাজনীতিবিদদের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে তাদের ‘পকেটে’ ঢুকে যান।
সোমবার (২৪ নভেম্বর ২০২৫) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টার (বিজেসি) আয়োজিত ‘মিডিয়া সংস্কার প্রতিবেদনের পর্যালোচনা’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান বক্তা হিসেবে মির্জা ফখরুল এই মন্তব্য করেন।
বিএনপি মহাসচিব সাংবাদিকদের বিভিন্ন সংগঠনের মধ্যে থাকা বিভাজন উল্লেখ করে বলেন, “আপনাদের তো অনেকগুলো ইউনিয়ন আছে। বিএফইউজে (বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন), ডিআরইউ (ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি), আবার দুই দলের দুই ভাগ আছে, তিন ভাগ আছে।”
সাংবাদিকদের দলীয়করণের দিকে ঝুঁকে পড়ার প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “আপনারা নিজেরাই আজ দলীয় হয়ে যাচ্ছেন। রাজনৈতিক দলগুলো আপনাদের কাউকে পকেটে নিতে চায়। আপনারা যদি পকেটে ঢুকে যান, তখন কিন্তু সমস্যা।” তাঁর এই মন্তব্য গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং পেশাগত নিরপেক্ষতা বজায় রাখার চ্যালেঞ্জের উপর আলোকপাত করে।
আলোচনা প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে তাঁর দলের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, “আমাদের প্রতিশ্রুতি খুবই পরিষ্কার। আমরা ৩১ দফার মাধ্যমে স্পষ্ট করে বলেছি যে আমরা একটি স্বাধীন গণমাধ্যম দেখতে চাই এবং সেটি গড়ে তুলতে চাই।”
একটি স্বাধীন গণমাধ্যম ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিএনপি একটি কমিশন গঠনের অঙ্গীকার করেছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মির্জা ফখরুল আশা প্রকাশ করেন যে, যদি বিএনপি জনগণের ভোটে সরকার গঠনের দায়িত্ব পায়, তাহলে নিঃসন্দেহে গণমাধ্যম সংস্কারের এই বিষয়টি অগ্রাধিকার পাবে। এর মাধ্যমে তিনি একটি নিরপেক্ষ এবং শক্তিশালী গণমাধ্যম কাঠামোর প্রয়োজনীয়তার উপর গুরুত্বারোপ করেন।
