শরীয়তপুরের নড়িয়া ও সখিপুর এলাকায় নদী ভাঙন রোধে নেওয়া একটি মেগা প্রকল্পের নিরাপত্তা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে। নদী তীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণের জন্য সংরক্ষিত ১০ হাজারেরও বেশি বালুভর্তি জিওব্যাগ লুটে নিয়েছে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল ও এলাকাবাসীর একাংশ। গত কয়েকদিনের এই লুণ্ঠন যজ্ঞে সরকারের উন্নয়নমূলক কাজে বড় ধরনের স্থবিরতা দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নড়িয়া উপজেলার চরমোহন এলাকা থেকে সখিপুর থানার উত্তর তারাবুনিয়া পর্যন্ত প্রায় ৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এই তীর রক্ষা বাঁধের কাজ গত দুই বছর ধরে চলমান রয়েছে। এরই অংশ হিসেবে সখিপুর থানার চরভাগা ইউনিয়নের মনাই হাওলাদার বাজার সংলগ্ন এলাকায় ১৮ হাজার বালুভর্তি জিওব্যাগ মজুদ করা হয়েছিল। পরিকল্পনা ছিল, পর্যায়ক্রমে এই ব্যাগগুলো নদীতে ফেলে ভাঙন প্রতিরোধ নিশ্চিত করা হবে।
কিন্তু গত কয়েকদিন ধরে দিনের আলোতে প্রকাশ্যে এবং রাতের অন্ধকারে গোপনে ওই ব্যাগগুলো থেকে বালু সরিয়ে ব্যাগগুলো নিয়ে যাওয়া হয়। মঙ্গলবার সরেজমিনে দেখা যায়, ১৮ হাজার ব্যাগের বিশাল স্তূপ থেকে অর্ধেকেরও বেশি বা ১০ হাজারের মতো ব্যাগ উধাও হয়ে গেছে। এই বিপুল পরিমাণ জিওব্যাগ লুটের ঘটনায় প্রকল্প এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনাটি নিয়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী খান মোহাম্মদ ওয়ালিউজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
তিনি বলেন, “নদী রক্ষা বাঁধের জন্য প্রস্তুত করে রাখা জিওব্যাগগুলো এভাবে লুটে নেওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। যদিও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এখনো কাজ আমাদের বুঝিয়ে দেয়নি, তবুও সরকারি কাজের জন্য রক্ষিত মালামাল এভাবে নিয়ে যাওয়া স্পষ্টত আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। এর ফলে সরকারি উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সরাসরি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।”
পাউবো কর্মকর্তারা জানান, চুরির পর গণনা করে দেখা গেছে ১০ হাজারের বেশি ব্যাগ প্রকল্প এলাকা থেকে নিখোঁজ। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, এই লুণ্ঠনের ফলে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে নদী ভাঙন ঠেকানো কঠিন হয়ে পড়বে। সামান্য ব্যক্তি স্বার্থে কোটি কোটি টাকার সরকারি প্রকল্পের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়াকে অশনি সংকেত হিসেবে দেখছেন সচেতন মহল।
এই বিপুল পরিমাণ সম্পদ কীভাবে সবার চোখের সামনে থেকে উধাও হলো, তা নিয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা। পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, এই বিষয়ে তারা আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবছে। যদি দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তবে বাকি মালামাল রক্ষা করা এবং প্রকল্পের সময়মতো সমাপ্তি অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।

