ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার পলাতক দুই আসামিকে ভারত থেকে ফিরিয়ে আনার আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু করেছে সরকার। সোমবার দুপুরে কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আয়োজিত জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
সম্প্রতি ভারতে গ্রেপ্তার হওয়া এই দুই আসামিকে দেশে ফিরিয়ে আনতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে ইতোমধ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানানো হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় তাদের দ্রুত বাংলাদেশে আনা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন মন্ত্রী।
হাদি হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে এই পদক্ষেপকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “অপরাধী যেখানেই পালিয়ে থাকুক, তাদের আইনের মুখোমুখি করা হবে। আমরা কূটনৈতিক চ্যানেলে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছি।”
একই সভায় দেশে সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন সহিংস ঘটনাকে ‘মব’ হিসেবে আখ্যা দেওয়ার প্রবণতা নিয়ে সতর্কবাণী উচ্চারণ করেন সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি মন্তব্য করেন, সব ঘটনাকে ঢালাওভাবে ‘মব জাস্টিস’ বলা সঠিক নয়। অনেক ক্ষেত্রে এগুলো স্রেফ বিচ্ছিন্ন অপরাধ, যা অপরাধীরা ব্যক্তিস্বার্থে ঘটিয়ে থাকে।
মাদক পাচার ও ব্যবসায়ীদের তালিকা প্রকাশের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী কিছুটা কৌশলী অবস্থান নেন। তিনি জানান, রাজনৈতিক প্রভাব বা তালিকার অপব্যবহার রোধে অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সাথে নতুন তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যাতে হয়রানির শিকার না হয়, সেদিকে কঠোর নজর রাখা হচ্ছে।
পর্যটন নগরী কক্সবাজারের শৃঙ্খলা ফেরাতেও কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জানান, সৈকতে গড়ে ওঠা সব অবৈধ স্থাপনা আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে উচ্ছেদ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে জেলা প্রশাসনকে। কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে কোনো দখলদারিত্ব সহ্য করা হবে না।
দেশজুড়ে চলমান সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট জানান, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী বা চাঁদাবাজদের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় থাকবে না। দলমত নির্বিশেষে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ফ্রি-হ্যান্ড দেওয়া হয়েছে।
সভায় কক্সবাজারের বিভিন্ন আসনের সংসদ সদস্যসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয় বাসিন্দারা আশা করছেন, হাদি হত্যার আসামিদের ফিরিয়ে আনা সম্ভব হলে এবং সৈকত দখলমুক্ত হলে জেলায় আইনের শাসনের এক নতুন অধ্যায় সূচিত হবে।

