রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর বাজারে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ২১টি দোকান ও গুদাম পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে লাগা এই আগুনে কয়েকশ মণ পাট, তুলার মিল এবং মুদি মালামালসহ কোটি টাকার সম্পদ হানির দাবি করেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। আগুন নেভাতে গিয়ে ফায়ার সার্ভিসের তিন সদস্য আহত হয়েছেন।
সকালবেলার ব্যস্ত সময়ে হঠাৎ একটি দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুনের লেলিহান শিখা চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা জানান, বাতাসের তীব্রতায় আগুন দ্রুত পাশের পাটের গোডাউন ও তুলার মিলে পৌঁছে যায়। খবর পেয়ে বালিয়াকান্দি ও রাজবাড়ী ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে।
প্রায় দুই ঘণ্টার প্রাণান্তকর চেষ্টায় স্থানীয়দের সহযোগিতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে ততক্ষণে আগুনের গ্রাসে ছাই হয়ে যায় ২১টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। আহত তিন ফায়ার ফাইটার—সোহেল রানা, মাহাফুজুর রহমান ও নুর আমিন ইমনকে দ্রুত উদ্ধার করে বালিয়াকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। তারা বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বাজারে পানির পর্যাপ্ত উৎস বা নিজস্ব পাম্পের ব্যবস্থা না থাকায় আগুন নেভাতে বেগ পেতে হয়েছে। পাট ব্যবসায়ী মিলন সিকদার কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, “আমার গোডাউনেই ২০০ মণের বেশি পাট ছিল। ১২ লাখ টাকার সম্পদ চোখের সামনে শেষ হয়ে গেল। ঈদের আগে এই ক্ষতি আমরা কীভাবে সইব?”
বাজারে থাকা গ্যাস সিলিন্ডারের দোকান ও কাপড়ের দোকানগুলোও আগুনের হাত থেকে রক্ষা পায়নি। আগুনের তীব্রতা এতই বেশি ছিল যে ব্যবসায়ীরা কোনো মালামাল বের করার সুযোগ পাননি। আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে অনেক ব্যবসায়ী নতুন মালামাল তুলেছিলেন, যা এখন কেবলই ধ্বংসস্তূপ।
রাজবাড়ী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক মো. সোহেল রানা জানান, “খবর পাওয়ার পরপরই আমাদের টিম কাজ শুরু করে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে আমাদের কর্মীরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন, যার ফলে তিনজন সদস্য আহত হয়েছেন। তবে আগুনের প্রকৃত কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নিরূপণে তদন্ত চলছে।”
বিকেলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন বালিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী অফিসার চৌধুরী মুস্তাফিজুর রহমান। তিনি জানান, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে এবং সরকারিভাবে তাদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করা হবে। পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও গ্রাম পুলিশ সম্মিলিতভাবে উদ্ধার তৎপরতা চালিয়েছে।
বর্তমানে বাজারের পরিস্থিতি থমথমে। সর্বস্ব হারানো ব্যবসায়ীরা পুড়ে যাওয়া দোকানের ধ্বংসস্তূপের সামনে নির্বাক হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা আরও জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন বাজার কমিটির নেতারা।

