প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং তাদের জন্য একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ বিনির্মাণে সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের দক্ষতা বৃদ্ধি এখন সময়ের দাবি। গত শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর অদূরে পূর্বাচলের ‘গ্রামের বাড়ি পার্ক’-এ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তারা এই বিষয়টির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বাংলাদেশ ন্যাশনাল অ্যালায়েন্স ফর ডিজেবিলিটি প্রফেশনালস (বিএনএডিপি)-এর বর্ষপূর্তি ও বার্ষিক সাধারণ সভা উপলক্ষে এই বর্ণাঢ্য আয়োজনের ব্যবস্থা করা হয়েছিল।
দিনব্যাপী এই অনুষ্ঠানে সংগঠনের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার পাশাপাশি নতুন একটি শক্তিশালী কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার রক্ষায় দেশজুড়ে যে পেশাজীবীরা নিরলস কাজ করছেন, তাদের আরও সুসংগঠিত করার লক্ষ্যেই এই সভার আয়োজন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভেলরী টেইলর ট্রাস্টের সম্মানিত ট্রাস্টি ডগলাস গ্ল্যান মেগি। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, প্রতিবন্ধী মানুষের জীবনমান বদলাতে হলে কেবল মাঠ পর্যায়ে কাজ করলে হবে না, বরং নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে জোরালো প্রভাব বিস্তার করতে হবে। তিনি পেশাজীবীদের জন্য নিরবচ্ছিন্ন শিক্ষা, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং জনসচেতনতা তৈরির ওপর বিশেষ জোর দেন। এছাড়াও এই খাতে আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা ও প্রকাশনার প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি স্মরণ করিয়ে দেন।
বার্ষিক সাধারণ সভার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল সংগঠনের নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন। সদস্যদের সরাসরি ভোটে আগামী মেয়াদের জন্য কার্যনির্বাহী কমিটির ৫টি পদের বিপরীতে মোট ৭ জন প্রতিনিধি নির্বাচিত হয়েছেন। নবনির্বাচিত কমিটির নেতৃত্বে রয়েছেন সভাপতি হিসেবে ড. মাহবুবুর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ড. এস এম ইমরান শোয়েব।
কমিটির অন্য দায়িত্বপ্রাপ্তরা হলেন—সহ-সভাপতি পদে শাম্মী হুমায়রা ইভা ও ফারহানা রহমান মিতু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মো. সিমানুর রহমান ও নাহিদা সুলতানা এবং কোষাধ্যক্ষ হিসেবে মো. রাসেল খান। নির্বাচিত এই প্রতিনিধিরা অঙ্গীকার করেছেন যে, তারা সংগঠনের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও কল্যাণমুখী করতে এবং সদস্যদের স্বার্থ রক্ষায় সর্বদা সচেষ্ট থাকবেন।
সভাপতির বক্তব্যে রেহান রাজু বিদায়ী ও নবনির্বাচিত প্রতিনিধিদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, দক্ষতা, মানবিকতা ও সহনশীলতাই হবে আমাদের মূল চালিকাশক্তি। নতুন কমিটি সংগঠনের মূল লক্ষ্য বাস্তবায়নে আরও বেশি পেশাদারিত্বের পরিচয় দেবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই বিএনএডিপি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার সংরক্ষণ এবং সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের দক্ষতা উন্নয়নে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। বিশেষ করে যারা থেরাপি, বিশেষ শিক্ষা এবং পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার সাথে যুক্ত, তাদের জন্য একটি ঐক্যবদ্ধ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে এটি কাজ করছে। অনুষ্ঠানের শেষভাগে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়, যেখানে সংগঠনের সদস্যদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সংখ্যা নেহায়েত কম নয়। তাদের সমাজের মূলধারায় ফিরিয়ে আনতে হলে পেশাদারদের কেবল সহমর্মিতা থাকলেই চলবে না, বরং আধুনিক প্রযুক্তি ও চিকিৎসা বিজ্ঞানের সর্বশেষ জ্ঞান নিয়ে সজ্জিত হতে হবে। বিএনএডিপির এই আয়োজন সেই লক্ষ্য অর্জনেই একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

