আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে দেশজুড়ে যখন উৎসব আর উৎকণ্ঠার মিশ্র আভাস, ঠিক তখনই উত্তরবঙ্গের কেন্দ্রস্থল রংপুর থেকে এক অভয়বাণী দিলেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) আব্দুর রহমানেল মাছউদ। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন, অতীতের মতো এবার কোনো ধরনের ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ বা পর্দার আড়ালে ভোটের ফল পরিবর্তনের সুযোগ নেই। নির্বাচন কমিশন একটি স্বচ্ছ ও কারসাজিমুক্ত নির্বাচন উপহার দিতে বদ্ধপরিকর।
শনিবার বিকেলে রংপুর সার্কিট হাউসে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও একই দিনে অনুষ্ঠেয় গণভোটের প্রস্তুতি তদারকি করতে বর্তমানে তিনি রংপুর সফর করছেন। সভাটিতে জেলার রিটার্নিং কর্মকর্তা, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তা এবং নির্বাচন সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
ইসি মাছউদ বলেন, “আমরা দেশের বিভিন্ন প্রান্ত ঘুরে দেখছি। মাঠ পর্যায়ের প্রস্তুতি সন্তোষজনক। জাতিকে একটি সত্যিকারের অর্থবহ নির্বাচন উপহার দেওয়ার জন্য রিটার্নিং কর্মকর্তা থেকে শুরু করে পোলিং অফিসার—সব মিলিয়ে প্রায় ১৮ লাখ কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং পুলিশ, বিজিবি, সেনাবাহিনী ও আনসার সদস্যরা একযোগে কাজ করছেন। তাদের মাঝে এখন একটাই প্রতিজ্ঞা—সুষ্ঠু ভোট নিশ্চিত করা।”
দেশের বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতা ও পাল্টাপাল্টি আন্দোলনের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার বলেন, কমিশনের ওপর বাইরের কোনো চাপ নেই। তবে নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে এমন যেকোনো মুভমেন্ট বা কর্মকাণ্ডের বিপক্ষে কমিশন জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করবে। তিনি আরও যোগ করেন, “দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এবার ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। বড় দলগুলো আমাদের কথা রাখছে, পোস্টার অপসারণ করছে এবং নিয়ম মেনে প্রচারণা চালাচ্ছে। এটি একটি ভালো নির্বাচনের পূর্বশর্ত।”
মতবিনিময় সভায় রাজনীতির মাঠের উত্তাপ ও সম্প্রতি ঘটে যাওয়া সহিংসতার প্রসঙ্গও উঠে আসে। শরীফ ওসমান হাদী হত্যার তীব্র নিন্দা জানিয়ে নির্বাচন কমিশনার বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। অপরাধীকে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলো একে অপরের বিরুদ্ধে যে কড়া বক্তব্য দিচ্ছে, তাকে তিনি ‘ভোটযুদ্ধের কৌশল’ হিসেবেই দেখছেন, যতক্ষণ না তা সহিংসতায় রূপ নেয়।
বিকেলে অনুষ্ঠিত এই সভায় জেলা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেল, ভিজিল্যান্স ও অবজারভেশন টিম এবং রংপুর জেলার ৬টি সংসদীয় আসনের দায়িত্বরত এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটরা অংশ নেন। সভায় রংপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল আহসান ও পুলিশ সুপার মারুফাত হুসাইনসহ প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। মাঠ পর্যায়ের ম্যাজিস্ট্রেটদের প্রতি ইসির নির্দেশনা ছিল স্পষ্ট—ভোটের দিন যেন ভোটাররা নির্ভয়ে কেন্দ্রে আসতে পারেন, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে যেকোনো মূল্যে।

