আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচনে ব্যালট বিপ্লবের মাধ্যমে বাংলাদেশের রাজনীতি থেকে সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও স্বৈরতন্ত্রের অবসান ঘটানো হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। তিনি বলেন, “চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর যারা আবার ফ্যাসিবাদের স্বপ্ন দেখছে, ব্যালটের মাধ্যমেই জনগণ তাদের সেই স্বপ্ন ধূলিসাৎ করে দেবে।”
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) বিকেলে কিশোরগঞ্জ শহরের আজিম উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। কিশোরগঞ্জ-১ (সদর ও হোসেনপুর) আসনের ১১ দলীয় জোট ও খেলাফত মজলিস মনোনীত প্রার্থী মাওলানা হেদায়েতউল্লাহ হাদীর সমর্থনে এই সভার আয়োজন করা হয়।
‘রিকশা মার্কার জোয়ার বইছে’
মাওলানা মামুনুল হক তার বক্তব্যে ১১ দলীয় জোটের নির্বাচনি প্রতীক ‘রিকশা’র পক্ষে জোরালো সওয়াল করেন। তিনি স্লোগান দিয়ে বলেন, “একাত্তরের মার্কা রিকশা রিকশা, চব্বিশের মার্কা রিকশা রিকশা।” তিনি উপস্থিত জনতাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, যারা দেশের মানুষের আমানত লুণ্ঠন করেনি, সেইসব সৎ ও আল্লাহভীরু মানুষকে সংসদে পাঠাতে রিকশা মার্কায় ভোট দিতে হবে। তার মতে, বর্তমানে সারা দেশে রিকশা মার্কার পক্ষে এক বিশাল জনজোয়ার তৈরি হয়েছে।
ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সতর্কতা
চব্বিশের বিপ্লবের পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে মামুনুল হক বলেন, “বিপ্লবের মাধ্যমে যাদের পুনর্বাসন হয়েছে, তাদের একটি অংশ এখন নব্য স্বৈরাচার হয়ে উঠতে পাগল হয়ে উঠেছে। তারা আবারও দেশে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করতে চায়।” তিনি ভোটারদের সতর্ক করে দিয়ে বলেন, এবার ভোট দেওয়ার সময় অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিতে হবে।
জনসভার আবহ ও উৎসবমুখর পরিবেশ
দুপুর থেকেই কিশোরগঞ্জ সদর ও হোসেনপুর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে নেতা-কর্মীরা আজিম উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জড়ো হতে থাকেন। বিকেলের মধ্যেই পুরো মাঠ ও আশপাশের এলাকা লোকে লোকারণ্য হয়ে যায়। সমর্থকদের হাতে থাকা রিকশা প্রতীকের প্ল্যাকার্ড ও মিছিলে মিছিলে মুখরিত হয়ে ওঠে কিশোরগঞ্জ শহর।
খেলাফত মজলিসের কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা শাখার আমির মাওলানা আব্দুল মুমিন শেরজাহানের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কিশোরগঞ্জ-১ আসনের প্রার্থী মাওলানা হেদায়েতউল্লাহ হাদী। তিনি নির্বাচিত হলে কিশোরগঞ্জকে একটি সন্ত্রাসমুক্ত ও আদর্শিক জনপদ হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেন। সভায় জোটের অন্যান্য স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দও বক্তব্য রাখেন।

